কার্সিনোসিন
ডা: ফায়েক এনাম
কার্সিনোসিন ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ হিসেবে চিকিত্সক সমাজে সুপরিচিত এবং সমাদৃত।আমাদের সকলের শ্রদ্ধের মুহিব স্যারের সাথে কিছুদিন আগে আমার স্বশরীরে সাক্ষাত্কার হয়েছিল। আমাদের মধ্যে কথাবার্তার বেশির ভাগ হয়েছিল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিষয়ক। কার্সিনোসিন সম্পর্কে আমি স্যারের কাছ থেকে বেশকিছু নির্দেশনা পেয়েছি। চেষ্টা নিচে করছি সংক্ষেপে নির্দেশনাগুলো তুলে ধরার জন্য।
♡কার্সিনোসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা করেছেন ব্রিটেনের ডা.ফবিস্টার।
♡উনি আরো বলেছেন,যে সব বাচ্চাদের চোখের রং নীল,চামড়া দেখতে দুধে আলতা মেশানোর মত সুন্দর তারা কার্সিনোসিনের ধাতের হয়ে থাকে।
♡বাংলাদেশের মধ্যে যারা অধিকতর সুন্দর,সাধারণ দশজনের মধ্যে অধিক সুন্দর,তিলের প্রাধান্য বেশি-এটাই কার্সিনোসিনের চেহারা।
♡যাদের বংশে ক্যান্সারের ইতিহাস আছে।
♡ক্যান্সারের আতংক আছে যার মধ্যে।অর্থাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় যাদের মধ্যে কাজ করবে।
♡দীর্ঘদিন মানসিক উদ্বেগ (Mental Stress) ও উৎকন্ঠা থেকে কোন রোগে আক্রান্ত হলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,কোন লোক কাজে ব্যর্থ হওয়ার পরে ঐ লোকের বস তাকে চাকরিতে প্রমোশন দিলনা।এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে লোকটির দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ভুগতে ভুগতে কোন রোগে আক্রান্ত হলে।কোন সুন্দরী মেয়ের প্রেমিক যে কিনা মেয়েটির চেয়ে লোয়ার কোয়ালিটির অথবা গরিব ঘরের একজন ছেলে, যার সামনের পরীক্ষার ফরমফিলাম,পুরো বছরের বেতন ও পরীক্ষার ফি দিতে না পারলে সে পরীক্ষা দিতে পারবেনা অথবা সেই ব্যক্তিটি হতে পারে যার অর্থনৈতিক দূরাবস্থারদরুন বোনের বিয়ে দিতে সংগতি নেই।-এমন ইতিহাস সম্বলিত লোকগুলো যারা দীর্ঘদিন ঐ মানসিক চাপের দরুন একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
মুহিব স্যারের কাছ থেকে অবাক করা দুটি রোগীলিপি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি। আপনাদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা।২০০৫-সালের ঘটনা।দীর্ঘদিন একরোগী আলসারেটিভ কোলাইটিসে (Ulcerative Colities)- ভুগছিল।লক্ষণসাদৃশ্যে ল্যাকেসিস,বোভিনাম প্রয়োগ করার পরেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়নি। একদিন রোগী স্যারকে বলল-"আমি ভয় পাচ্ছি,রোগটা খারাপের দিকে যাবে কিনা।" স্যার রোগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন-"আপনি খারাপ বলতে কি বুঝিয়েছেন ?" রোগী জানিয়েছিল তাঁর মধ্যে ক্যান্সার হয়ে যাবে এমন একটি ভীতি কাজ করছে। কার্সিনোসিন m/6 এব m/8- প্রয়োগে রোগী খুব দ্রুত ভাল হয় এবং হাসতে হাসতে চেম্বার এসে বলে-"আপনার ঔষধে ভাল হয়ে গেছি,এ ঔষধটা আগে দিলেননা কেন!!!"
আরেক রোগী ভদ্রলোকের নাম-রূপক কর্মকার। বয়স-২৫-২৬ বছর। বাবা-নারায়ণ কর্মকার। ঠিকানা-মাইজদি,নোয়াখালী। মাইদির প্রথম শ্রেষ্ঠ স্বর্ণকার হলেন বিশ্বনাথ কর্মকার,দ্বিতীয় পজিশন আমাদের রোগীর বাবা নারায়ণ কর্মকার।রোগী নারায়ণ কর্মকারের ছোট ছেলে। তিনি সহ তার পরিবারের মোট ৬-জন সদস্যের মধ্যে ৫-জনই খুব উপকৃত হচ্ছিল কিন্তু লক্ষণসাদৃশ্যে মার্কসল,সিফিলিনাম,দু'একবার এসিড নাইট্রিক প্রয়োগ করার পরে অত্যন্ত ধীরে কিছু কিছু উন্নতি ঘটছিল। রোগী খুবই খুশি,কারণ সে কয়েকবার ইন্ডিয়াতে গেছে লিউকোপ্লাকিয়ার চিকিত্সার জন্য কিন্তু কিছুই হয়নি।স্যারের চিকিত্সায় কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে।স্যার কিন্তু খুশি হতে পারেননি।স্যারের তখন বর্তমান বইপুস্তকের সংখ্যার তুলনায় তখনকার বইয়ের সংখ্যা ২০-২৫% কম ছিল।স্যার সবগুলো মেটেরিয়া মেডিকা ঘেঁটেছেন।এলোপ্যাথিক চিকিত্সার সবচেয়ে বড় বই ডেভিডসনের প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ১৬-তম সংস্করণে স্যার লিউকোপ্লাকিয়া সম্পর্কে একটি তথ্য পেলেন,যেখানে বলা হয়েছে লিউকোপ্লাকিয়ার রোগীদের ১০% রোগী ক্যান্সারের দিকে মোড় নেয়।এক্ষেত্রে রোগীদের বায়োপসি করতে হবে।থিওরিটা সম্পূর্ণ এলোপ্যাথিক।ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে অনেক ঝুঁকি নিয়ে স্যার রোগীটাকে কার্সিনোসিন m/5 এবং m/ 7-ক্রমান্বয়ে সাতদিন সাতদিন করে মোট চৌদ্দদিন খেতে দেন।স্যার,টেনশনে ঘুমাতে পারেননি। ফলাফল,রোগীর দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে চর্মরোগ বের হয়ে রোগী আরোগ্য হয়েছিল। চুলকানীর জন্য প্রায় ৬-মাস তাকে লুঙ্গি পরে থাকতে হয়েছিল।তার দোকানের কর্মচারীরা সবাই প্যান্ট পরে আসলেও সে থাকত লুঙ্গি পরে। এমনকী ইন্ডিয়াতে তার এক বন্ধুর বিয়েতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিল সে লুঙ্গি পড়ে। ------------------- স্যারকে অনেক ধন্যবাদ এমন মজার এবং শিক্ষণীয় একটি কেইস আমার সাথে শেয়ার করার জন্য।
স্যারের মতে,♡কোন ডিপ মেডিসিনের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তা কাজ না করলে টিউবার প্রয়োগ করা যায়।টিউবারের ব্যর্থতায় কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে হয়।
♡কোন রোগে আমরা অন্যান্য ঔষধের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ৩০,২০০,1M,10M-এভাবে ক্রমান্বয়ে নিম্ন থেকে উচ্চশক্তিতে ঔষধ প্রয়োগ করি।কার্সিনোসিন কিন্তু এভাবে প্রয়োগ করা যাবেনা।এটি প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল বেরিয়ার বা আরোগ্যের পথে বাধা দূর করা। ♡তিনি জোর দিয়ে বলেছেন,ক্যান্সারের এডভান্স স্টেইজে কার্সিনোসিন দেওয়া যাবে না।দিলে রোগী খুব দ্রুত মারা যাবে।যদিও প্রাইমারি স্টেইজে প্রয়োগ করলে অনেকসময় সমস্যা নাও হতে পারে তবে রিক্স কিন্তু থেকেই যায়।তাই,ক্যান্সারের প্রাইমারি এবং এডভান্স স্টেইজে আমরা কখনও কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে যাব না।
••• ডেভিডসনের প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের আঠারতম এডিশনে উল্লেখ আছে,লিউকোপ্লাকিয়ায় ভুগছে এমন রোগীদের এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি।লিউকোপ্লাকিয়া মুখের একধরণের ঘা,যেটা সহজে কিউর হতে চায়না।কিছু কিছু ছেলেমেয়ে পাবেন জন্মের পর থেকে ওরা বাম হাতে স্বাচ্ছন্দে কাজ করে।এদের বাহাতি বলা হয়(left handed)বাবা মা কি করছেন,ছেলেটাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে,ডান হাত ব্যবহারে অভ্যস্ত করে পরিতৃপ্ত হচছেন,কাজের মত কাজ করে ফেলেছেন যেনো।ছেলেটার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে সাপ্রেস করা হলো,অবদমন করা হলো।এরকমই অংকে পারদর্শী ছেলেটাকে শিল্পী বানাতে চাচ্ছেন মা,বাচ্চাটার অবস্হা একই হবে। অথবা অংকনে পারদর্শী বাচ্চাটাকে সাইন্স পড়াচ্ছেন,ছেলেটা কিন্তু পছন্দ করছে না,বাবা মায়ের চাপে পড়তে বাধ্য হচ্ছে।এটাও supression,ছেলেটা তার ইচ্ছার বিরুদ্বে এগুলো করতে বাধ্য হচ্ছে। সুন্দর প্রাসঙ্গিক rubric পয়ে যাচ্ছেন suppression if natural inclinations desires। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে সাপ্রেস করা হচ্ছে।এভাবে একটা পরিবার,স্কুল,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,সামাজিক সংগঠন,রাজনৈতিক দল,রাষ্ট্রীয় কাঠামো সব দিক থেকেই আমরা চাপের মধ্যে রয়েছি।অর্থনীতিতে চাপ থাকছেই,এমনকি ধর্মীয়ভাবে,সামাজিকভাবে,সবসময় চাপ থাকছে।নগর সভ্যতার চাপ।সব কিছু মিলিয়ে বর্তমান সভ্যতাটাকেই বলা হচ্ছে ক্যান্সারের জননী। সর্বাধুিনক অসুখের নাম হচ্ছে ক্যান্সার।প্রত্যেক যায়গাতেই আপনি চাপ বা সাপ্রেসনের ছোঁয়া লেগেছে দেখতে পাবেন।মুক্ত বাতাস নেই,মুক্ত চিন্তা নেই,মুক্ত প্রকৃতি নেই।এ জন্যই বলা হচ্ছে "আধুনিক সভ্যতা হচ্ছে ক্যান্সারের জননী"। এই অবস্হাটা হচ্ছে ক্যান্সারের পূর্বশর্ত,এটাই হচ্ছে কার্সিনোসিনের প্রয়োগ ক্ষেত্র।কার্সিনোসিন হচ্ছে ব্রেষ্ট ক্যান্সারের টিস্যু থেকে নেয়া একটা অংশ।বাচ্চা বয়স থেকই সংসারের নানা কাজে অংশ গ্রহন করে।মাকে সাহায্যকরে,বাবাকে সাহায্য করে,এটা ওটা কাজ করতেই থাকে।সবাই বলে মালক্ষী,কেউ কেউ হয়ে যায় গুডবয়।নানা অভাবের কারনে অনেক বাচ্চাকে শ্রমে নিয়োজিত করে,অনেকে বচ্চাকে ইটের ভাটায় কাজ করতে দেখা যয়।অনেক বাড়ীতে ফায়ফরমায়েসের কাজ করে,নির্যাতন চলতেই থাকে তীর্ঘদিন,এরা কার্সিনোসিনের এরিয়াতে ঢুকে পড়ে। এই নির্য্যাতনের বিরুদ্বে কফি খেতে খেতে টক শো হয়,সেমিনার হয়,পোষ্টার হয়,শিশু শ্রমের বিরুদ্বে দেশে আইনও তৈরী হয়।কিন্তু ঘোড়ার ডিম হয়। শিশুটার ওপর চাপ বাড়তে থাকে,এই চাপ তাকে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধতে থাকে।সে বিদ্রোহ হজম করছে। একক ঔষুধ কার্সিনোসিন।
ডা: ফায়েক এনাম
কার্সিনোসিন ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি ঔষধ হিসেবে চিকিত্সক সমাজে সুপরিচিত এবং সমাদৃত।আমাদের সকলের শ্রদ্ধের মুহিব স্যারের সাথে কিছুদিন আগে আমার স্বশরীরে সাক্ষাত্কার হয়েছিল। আমাদের মধ্যে কথাবার্তার বেশির ভাগ হয়েছিল হোমিওপ্যাথি চিকিত্সা বিষয়ক। কার্সিনোসিন সম্পর্কে আমি স্যারের কাছ থেকে বেশকিছু নির্দেশনা পেয়েছি। চেষ্টা নিচে করছি সংক্ষেপে নির্দেশনাগুলো তুলে ধরার জন্য।
♡কার্সিনোসিন নিয়ে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষা করেছেন ব্রিটেনের ডা.ফবিস্টার।
♡উনি আরো বলেছেন,যে সব বাচ্চাদের চোখের রং নীল,চামড়া দেখতে দুধে আলতা মেশানোর মত সুন্দর তারা কার্সিনোসিনের ধাতের হয়ে থাকে।
♡বাংলাদেশের মধ্যে যারা অধিকতর সুন্দর,সাধারণ দশজনের মধ্যে অধিক সুন্দর,তিলের প্রাধান্য বেশি-এটাই কার্সিনোসিনের চেহারা।
♡যাদের বংশে ক্যান্সারের ইতিহাস আছে।
♡ক্যান্সারের আতংক আছে যার মধ্যে।অর্থাৎ ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ভয় যাদের মধ্যে কাজ করবে।
♡দীর্ঘদিন মানসিক উদ্বেগ (Mental Stress) ও উৎকন্ঠা থেকে কোন রোগে আক্রান্ত হলে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়,কোন লোক কাজে ব্যর্থ হওয়ার পরে ঐ লোকের বস তাকে চাকরিতে প্রমোশন দিলনা।এ ঘটনার প্রেক্ষাপটে লোকটির দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ভুগতে ভুগতে কোন রোগে আক্রান্ত হলে।কোন সুন্দরী মেয়ের প্রেমিক যে কিনা মেয়েটির চেয়ে লোয়ার কোয়ালিটির অথবা গরিব ঘরের একজন ছেলে, যার সামনের পরীক্ষার ফরমফিলাম,পুরো বছরের বেতন ও পরীক্ষার ফি দিতে না পারলে সে পরীক্ষা দিতে পারবেনা অথবা সেই ব্যক্তিটি হতে পারে যার অর্থনৈতিক দূরাবস্থারদরুন বোনের বিয়ে দিতে সংগতি নেই।-এমন ইতিহাস সম্বলিত লোকগুলো যারা দীর্ঘদিন ঐ মানসিক চাপের দরুন একসময় অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
মুহিব স্যারের কাছ থেকে অবাক করা দুটি রোগীলিপি মুগ্ধ হয়ে শুনেছি। আপনাদের সাথে শেয়ার করার লোভ সামলাতে পারছিনা।২০০৫-সালের ঘটনা।দীর্ঘদিন একরোগী আলসারেটিভ কোলাইটিসে (Ulcerative Colities)- ভুগছিল।লক্ষণসাদৃশ্যে ল্যাকেসিস,বোভিনাম প্রয়োগ করার পরেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন সাধিত হয়নি। একদিন রোগী স্যারকে বলল-"আমি ভয় পাচ্ছি,রোগটা খারাপের দিকে যাবে কিনা।" স্যার রোগীকে জিজ্ঞেস করেছিলেন-"আপনি খারাপ বলতে কি বুঝিয়েছেন ?" রোগী জানিয়েছিল তাঁর মধ্যে ক্যান্সার হয়ে যাবে এমন একটি ভীতি কাজ করছে। কার্সিনোসিন m/6 এব m/8- প্রয়োগে রোগী খুব দ্রুত ভাল হয় এবং হাসতে হাসতে চেম্বার এসে বলে-"আপনার ঔষধে ভাল হয়ে গেছি,এ ঔষধটা আগে দিলেননা কেন!!!"
আরেক রোগী ভদ্রলোকের নাম-রূপক কর্মকার। বয়স-২৫-২৬ বছর। বাবা-নারায়ণ কর্মকার। ঠিকানা-মাইজদি,নোয়াখালী। মাইদির প্রথম শ্রেষ্ঠ স্বর্ণকার হলেন বিশ্বনাথ কর্মকার,দ্বিতীয় পজিশন আমাদের রোগীর বাবা নারায়ণ কর্মকার।রোগী নারায়ণ কর্মকারের ছোট ছেলে। তিনি সহ তার পরিবারের মোট ৬-জন সদস্যের মধ্যে ৫-জনই খুব উপকৃত হচ্ছিল কিন্তু লক্ষণসাদৃশ্যে মার্কসল,সিফিলিনাম,দু'একবার এসিড নাইট্রিক প্রয়োগ করার পরে অত্যন্ত ধীরে কিছু কিছু উন্নতি ঘটছিল। রোগী খুবই খুশি,কারণ সে কয়েকবার ইন্ডিয়াতে গেছে লিউকোপ্লাকিয়ার চিকিত্সার জন্য কিন্তু কিছুই হয়নি।স্যারের চিকিত্সায় কিছুটা হলেও উন্নতি হয়েছে।স্যার কিন্তু খুশি হতে পারেননি।স্যারের তখন বর্তমান বইপুস্তকের সংখ্যার তুলনায় তখনকার বইয়ের সংখ্যা ২০-২৫% কম ছিল।স্যার সবগুলো মেটেরিয়া মেডিকা ঘেঁটেছেন।এলোপ্যাথিক চিকিত্সার সবচেয়ে বড় বই ডেভিডসনের প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ১৬-তম সংস্করণে স্যার লিউকোপ্লাকিয়া সম্পর্কে একটি তথ্য পেলেন,যেখানে বলা হয়েছে লিউকোপ্লাকিয়ার রোগীদের ১০% রোগী ক্যান্সারের দিকে মোড় নেয়।এক্ষেত্রে রোগীদের বায়োপসি করতে হবে।থিওরিটা সম্পূর্ণ এলোপ্যাথিক।ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনার উপর ভিত্তি করে অনেক ঝুঁকি নিয়ে স্যার রোগীটাকে কার্সিনোসিন m/5 এবং m/ 7-ক্রমান্বয়ে সাতদিন সাতদিন করে মোট চৌদ্দদিন খেতে দেন।স্যার,টেনশনে ঘুমাতে পারেননি। ফলাফল,রোগীর দেহ থেকে প্রচুর পরিমাণে চর্মরোগ বের হয়ে রোগী আরোগ্য হয়েছিল। চুলকানীর জন্য প্রায় ৬-মাস তাকে লুঙ্গি পরে থাকতে হয়েছিল।তার দোকানের কর্মচারীরা সবাই প্যান্ট পরে আসলেও সে থাকত লুঙ্গি পরে। এমনকী ইন্ডিয়াতে তার এক বন্ধুর বিয়েতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়েছিল সে লুঙ্গি পড়ে। ------------------- স্যারকে অনেক ধন্যবাদ এমন মজার এবং শিক্ষণীয় একটি কেইস আমার সাথে শেয়ার করার জন্য।
স্যারের মতে,♡কোন ডিপ মেডিসিনের লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তা কাজ না করলে টিউবার প্রয়োগ করা যায়।টিউবারের ব্যর্থতায় কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে হয়।
♡কোন রোগে আমরা অন্যান্য ঔষধের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে ৩০,২০০,1M,10M-এভাবে ক্রমান্বয়ে নিম্ন থেকে উচ্চশক্তিতে ঔষধ প্রয়োগ করি।কার্সিনোসিন কিন্তু এভাবে প্রয়োগ করা যাবেনা।এটি প্রয়োগের মূল উদ্দেশ্য হল বেরিয়ার বা আরোগ্যের পথে বাধা দূর করা। ♡তিনি জোর দিয়ে বলেছেন,ক্যান্সারের এডভান্স স্টেইজে কার্সিনোসিন দেওয়া যাবে না।দিলে রোগী খুব দ্রুত মারা যাবে।যদিও প্রাইমারি স্টেইজে প্রয়োগ করলে অনেকসময় সমস্যা নাও হতে পারে তবে রিক্স কিন্তু থেকেই যায়।তাই,ক্যান্সারের প্রাইমারি এবং এডভান্স স্টেইজে আমরা কখনও কার্সিনোসিন প্রয়োগ করতে যাব না।
••• ডেভিডসনের প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের আঠারতম এডিশনে উল্লেখ আছে,লিউকোপ্লাকিয়ায় ভুগছে এমন রোগীদের এইডসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুব বেশি।লিউকোপ্লাকিয়া মুখের একধরণের ঘা,যেটা সহজে কিউর হতে চায়না।কিছু কিছু ছেলেমেয়ে পাবেন জন্মের পর থেকে ওরা বাম হাতে স্বাচ্ছন্দে কাজ করে।এদের বাহাতি বলা হয়(left handed)বাবা মা কি করছেন,ছেলেটাকে বুঝিয়ে শুনিয়ে,ডান হাত ব্যবহারে অভ্যস্ত করে পরিতৃপ্ত হচছেন,কাজের মত কাজ করে ফেলেছেন যেনো।ছেলেটার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে সাপ্রেস করা হলো,অবদমন করা হলো।এরকমই অংকে পারদর্শী ছেলেটাকে শিল্পী বানাতে চাচ্ছেন মা,বাচ্চাটার অবস্হা একই হবে। অথবা অংকনে পারদর্শী বাচ্চাটাকে সাইন্স পড়াচ্ছেন,ছেলেটা কিন্তু পছন্দ করছে না,বাবা মায়ের চাপে পড়তে বাধ্য হচ্ছে।এটাও supression,ছেলেটা তার ইচ্ছার বিরুদ্বে এগুলো করতে বাধ্য হচ্ছে। সুন্দর প্রাসঙ্গিক rubric পয়ে যাচ্ছেন suppression if natural inclinations desires। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে সাপ্রেস করা হচ্ছে।এভাবে একটা পরিবার,স্কুল,বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান,সামাজিক সংগঠন,রাজনৈতিক দল,রাষ্ট্রীয় কাঠামো সব দিক থেকেই আমরা চাপের মধ্যে রয়েছি।অর্থনীতিতে চাপ থাকছেই,এমনকি ধর্মীয়ভাবে,সামাজিকভাবে,সবসময় চাপ থাকছে।নগর সভ্যতার চাপ।সব কিছু মিলিয়ে বর্তমান সভ্যতাটাকেই বলা হচ্ছে ক্যান্সারের জননী। সর্বাধুিনক অসুখের নাম হচ্ছে ক্যান্সার।প্রত্যেক যায়গাতেই আপনি চাপ বা সাপ্রেসনের ছোঁয়া লেগেছে দেখতে পাবেন।মুক্ত বাতাস নেই,মুক্ত চিন্তা নেই,মুক্ত প্রকৃতি নেই।এ জন্যই বলা হচ্ছে "আধুনিক সভ্যতা হচ্ছে ক্যান্সারের জননী"। এই অবস্হাটা হচ্ছে ক্যান্সারের পূর্বশর্ত,এটাই হচ্ছে কার্সিনোসিনের প্রয়োগ ক্ষেত্র।কার্সিনোসিন হচ্ছে ব্রেষ্ট ক্যান্সারের টিস্যু থেকে নেয়া একটা অংশ।বাচ্চা বয়স থেকই সংসারের নানা কাজে অংশ গ্রহন করে।মাকে সাহায্যকরে,বাবাকে সাহায্য করে,এটা ওটা কাজ করতেই থাকে।সবাই বলে মালক্ষী,কেউ কেউ হয়ে যায় গুডবয়।নানা অভাবের কারনে অনেক বাচ্চাকে শ্রমে নিয়োজিত করে,অনেকে বচ্চাকে ইটের ভাটায় কাজ করতে দেখা যয়।অনেক বাড়ীতে ফায়ফরমায়েসের কাজ করে,নির্যাতন চলতেই থাকে তীর্ঘদিন,এরা কার্সিনোসিনের এরিয়াতে ঢুকে পড়ে। এই নির্য্যাতনের বিরুদ্বে কফি খেতে খেতে টক শো হয়,সেমিনার হয়,পোষ্টার হয়,শিশু শ্রমের বিরুদ্বে দেশে আইনও তৈরী হয়।কিন্তু ঘোড়ার ডিম হয়। শিশুটার ওপর চাপ বাড়তে থাকে,এই চাপ তাকে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধতে থাকে।সে বিদ্রোহ হজম করছে। একক ঔষুধ কার্সিনোসিন।
কার্সিনোসিনের সাথে রোগীর লক্ষন মিলে যায়। তবে তার ক্যান্সার ধরা পড়ে নাই কিন্তু লক্ষনগুলো অনেক পুরাতন সেক্ষেত্রে কার্সিনোসিন দেওয়া যাবে কিনা এবং কত শক্তি দিয়ে শুরু করলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
উত্তরমুছুন