বুধবার, ১১ জানুয়ারি, ২০১৭

অর্গানন সুত্র নং ২


All credits : https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=660337660815275&id=659714340877607

অর্গানন সুত্র নং ২
The highest ideal of cure is rapid, gentle and permanent restoration of the health, or removal and annihilation of the disease in its whole extent, in the shortest, most reliable, and most harmless way, on easily comprehensive principles.
সূত্র-০২, আরোগ্যের সর্বোচ্চ আদর্শ হচ্ছে স্বাস্থ্যের দ্রুত, শান্ত এবং স্থায়ী পুনরুদ্ধার অথবা সবচেয়ে অল্প সময়ে, সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য এবং সবচেয়ে নির্দোষভাবে, সহজে বোধগম্য নীতিভিত্তিক ব্যাধিকে এর সামগ্রিক পরিসরে অপসারণ এবং আরোগ্য করা।
ব্যাখ্যা:- প্রাক-হ্যানিম্যান যুগে চিকিৎসা ব্যবস্থা ছিল খুব যন্ত্রণাকর। ঔষধের স্বাদ, গন্ধ ছিল অতৃপ্তিকর, ক্রিয়া ছিল উগ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ। রক্তপাত, পুঁজনিঃসরণ, জোলাপ, বমন ইত্যাদি ব্যবস্থার মাধ্যমে আরোগ্যের নামে রোগীকে খুব কষ্ট দেয়া হতো। অনেক সময় অঙ্গহানি করেও রোগীর চিকিৎসা করা হতো। প্রকৃতি যেমন Crisis এর মাধ্যমে কোনো অঙ্গহানি করে রোগীর জীবন বাঁচায়, সেই নীতির অনুসরণে প্রাচীন চিকিৎসকগণ কাজ করতেন। হ্যানিম্যান এসব অপব্যবস্থা বাতিল করে প্রাচীন ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত একটি চিকিৎসাব্যবস্থা আবিষ্কার করেন। বর্বরতার বিপরীতে এটি অভিজ্ঞতা কর্তৃক সমর্থিত, পরিশীলিত, অনুগ্র, দোষমুক্ত এবং দ্রুত আরোগ্য-সহায়ক একটি চিকিৎসাপদ্ধতি। এ-সূত্রের স্থায়ী, দ্রুত ও শান্ত কথাগুলো তুলনামূলক। প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতির সাথে তুলনা করে বলা হয়েছে। স্থূল মাত্রার ঔষধগুলো Metabolic পদ্ধতিতে ক্রিয়া করে বলে তাদের ক্রিয়া প্রকাশে সময় বেশি লাগে। কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সূক্ষ্ম শক্তিকৃত এবং সূক্ষ্ম জীবনীশক্তির উপর সরাসরি ক্রিয়া করে বলে এর ক্রিয়া তৎক্ষণাৎভাবে প্রকাশ পায় এবং দ্রুত আরোগ্য ক্রিয়া শুরু হয়। এছাড়াও হ্যানিম্যান বলেছেন যে, অন্যপ্যাথিতে ঘোষিত দূরারোগ্য চিররোগ যদি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দুই অথবা এক বছরে আরোগ্য হয় তাহলে তা খুব দ্রুতই আরোগ্য হলো (চিররোগগ্রন্থ পৃষ্ঠা নম্বর-১৩৬)। এরপর আরোগ্য চিরস্থায়ী করতে হলে স্বাস্থ্যের পরিপূর্ণ পুনরুদ্ধার অবশ্যই করতে হবে। এবং জীবনীশক্তিকে পরিপূর্ণ শৃঙ্খলায় ফিরিয়ে আনতে হবে। কারণ জীবনীশক্তি আমাদের দেহকে সুস্থ অবস্থায় যেমনি সুচারুরূপে পরিচালনা করে, তেমনি রোগ ব্যাধি থেকেও রক্ষা করে। হোমিওপ্যাথি ছাড়া কোনো চিকিৎসাব্যবস্থা জীবনীশক্তির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পারে না। কাজেই একমাত্র হোমিওপ্যাথিই স্থায়ী আরোগ্য নিশ্চিত করতে পারে। এরপর হ্যানিম্যান এ-সূত্রে যে নিয়মনীতির কথা বলেছেন, তা সম্পূর্ণ হোমিওপ্যাথিক নিয়মনীতি। ‘সদৃশে সদৃশ আরোগ্য হয়’ এটি একটি চিরন্তণ বিধি (Universal law), এর কোনো ব্যতিক্রম নেই। এ-চিরসত্যকে মানুষের কল্যাণে প্রয়োগ করতে হলে নিয়মনীতির উপর নির্ভর করতে হবে। হোমিওপ্যাথি যে সকল নিয়মনীতির উপর প্রতিষ্ঠিত তা হ্যানিম্যান এ ছোট পুস্তকে পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন। অর্গাননকে তিনি ‘Science of Homœopathy’ বলেছেন। অতএব এ-অর্গাননটি আমাদের পরিপূর্ণভাবে বুঝতে হবে।
অর্গাননের ২য সূত্রে ৩ টি লক্ষণীয় বিষয় অন্তর্নিহিত আছে এবং সেগুলো উদঘাটন করা প্রয়োজন।।
১ ম :--- রোগীর স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে (শুধু মাত্র লক্ষণ সমুহ অপসারিত করা নয়)
২য় :--- আরোগ্য দ্রুত, শান্ত ভাবে, ও স্থায়ী হতে হবে।
৩ য়:---- চিকিৎসা কার্য যুগপৎ সরল ও সহজবোধ্য নীতির অনুবর্তী হতে হবে।
ডা: সাখাওয়াত হোসাইন
২ নং সুত্রের বিস্তারিত আলোচনা – যদি অতি অল্প সময়ে রোগীকে সম্পূর্ণ নীরোগ করিয়া রোগ আরোগ্য করা হয়, এই আরোগ্য যদি উপদ্রবহীন বা সম্পূর্ণ যন্ত্রণাহীন প্রথায় না হয় এবং একবার আরোগ্য সাধিত হইলে যদি রোগ আর ফিরিয়া না আসে, তবেই চিকিৎসকের আরোগ্যবিধানকার্য সর্বদা সার্থক । এইরূপ আরোগ্যই সর্বাপেক্ষা বাঞ্ছনীয় বা আদর্শস্বরূপ । এমন হইতে পারে রোগ অল্প সময়ে আরোগ্য হইল বটে, কিন্তু ঔষধাদি প্রয়োগের যন্ত্রণায় প্রান ওষ্ঠাগত হয় কিংবা তাহা না হইলে, বহুকাল ধরিয়াই ঔষধাদি চলিতেছে অথবা ঔষধাদিও যন্ত্রণাদায়ক নহে, রোগীও শীঘ্র সুস্থ বোধ করিল কিন্তু আবার ২/৫ দিন যাইতে না যাইতেই, রোগ পুনরায় প্রবলতর বেগে আক্রমণ করিল । এ প্রকারের আরোগ্য চিকিৎসকের কাজের আদর্শসরূপ হওয়া উচিৎ নহে । আরোগ্য উক্ত পঞ্চবিধ বিশিষ্টতাসহ সাধিত না হইলে এবং রোগী স্বীয় স্বাস্থ্য স্থায়ীভাবে ফিরিয়া না পাইলে, তা আরোগ্যের সর্বোচ্চ আদর্শ হইতে পারে না
-----------------------------------------------------------------------------------
হ্যানিম্যান তাই বলিতেছেন, চিকিৎসকের স্মরণ রাখা উচিৎ যে –
( ক ) অতি অল্প সময় মধ্যে ( খ ) রোগীকে কোনও জ্বালাযন্ত্রণা না দিয়া এবং ( গ ) স্থায়ীভাবে অর্থাৎ রোগের পুনরাক্রমন রহিত করিয়া যদি তিনি ( ঘ ) রোগীর স্বাস্থ্য পুনঃপ্রদান কার্য ( ঙ ) সরল, বিশ্বাসযোগ্য ও সহজবোধ্য বিধানে সম্পন্ন করিতে পারেন, তবেই তাহার জীবন ধন্য হইবে । নতুবা তাহার চেষ্টিত আরোগ্যবিধান অপূর্ণ থাকিয়া গেল বুঝিতে হইবে এবং উক্ত আদর্শের প্রতি লক্ষ্য স্থির রাখিয়া উন্নতির পথ অনুসন্ধান করিতে হইবে । যেনতেন প্রকারে রোগের কথঞ্চিৎ উপশম করিয়া তাহা আরোগ্য নামের অনুপযুক্ত হইলেও, তাঁহার কাজ শেষ হইয়াছে ভাবিয়া, চিকিৎসক যে অর্থাগমসুখ ভোগ করিবেন তাহা হইবে না । এরূপ করিলে, তাঁহার দ্বারা পুণ্যময় চিকিৎসক নামে কলঙ্ক আরোপিত হইবে ।
---------------------------------------------------------------------------------
সাধারণ খোসপাঁচরা বা দদ্রুরোগাদির আরোগ্য বিষয়ে আলোচনা করিলে আমরা উপযুক্ত রোগের বাহ্যিক ও আভ্যন্তরিক আরোগ্যের গুঢ় রহস্য হৃদয়ঙ্গম করিতে পারি । হোমিওপ্যাথি ব্যতীত সকল চিকিৎসাশাস্ত্রই উহাকে চর্মরোগ বা রক্তদুষ্টি বলেন । চর্মরোগ বলিলে কি বুঝায় ? রক্তদুষ্টিরই বা অর্থ কি ? চর্ম মানবের বাহ্যিক আবরণ । রক্ত শিরা ও ধমনীতে চলাচল করে । ইহাদের রোগ বলিলে, কি মানব শরীরের অন্যান্য অংশ হইতে ইহাদিগকে যেন পৃথক বলিয়া মনে করা হয় না ? কিন্তু একটু বিবেচনা করিলেই বুঝিতে পারা যায় যে, প্রাচিরজাত বৃক্ষাদি যেমন শুধু প্রাচিরের দোষ না দেখাইয়া প্রাচীরের বা গৃহস্বামীর দুরবস্থা প্রকাশ করে, সেইরূপ খোসপাঁচড়া প্রভৃতিও কেবল চর্মের বা রক্তের দোষ না দেখাইয়া মানবের জীবনীশক্তির দুর্বলতাই প্রকাশ করে । গৃহস্বামীর অবস্থা ভাল হইলে তিনি এমন প্রাচীর প্রস্তুত করেন বা তাহা এরূপ
মেরামত রাখেন যে তাহাতে বৃক্ষাদি জন্মিতে পারে না বা জন্মিলেও বহুকাল স্থায়ী হইতে পারে না । রেলওয়ে বা গভর্নমেন্টের অট্টালিকা ও প্রাচীরগুলি এরূপ দৃঢ়ভাবে ও সুকৌশলে নির্মিত হয় যে, তাহাতে বৃক্ষাদি জন্মিতে পারে না, জন্মিলেও দর্শনমাত্রই তাহাদের সমূলে প্রকৃষ্ট উপায়ে উৎপাটিত করা হয় । কিন্তু সাধারণ ব্যক্তিগণ স্বল্পব্যয়ে প্রাচিরাদি নির্মাণ করেন । তাহাদের নির্মিত দ্রব্য অন্তসারশূন্য বলিয়াই তাহাতে বটগাছ, অশ্বথ গাছ এবং অপর কত কি গাছ জন্মায় । প্রাচীরের উপর যদি উপযুক্ত কঠিন আবরণ থাকে এবং অভ্যন্তরের উপকরণ ভাল হয়, তাহা হইলে কোন প্রকারেই তাহার ধ্বংস সহজসাধ্য হয় না , কিন্তু এতদুভয়ই অধিকারীর অর্থবলের উপর নির্ভর করে । এইরূপে আমাদের জীবনীশক্তির সমুচিত বলের অভাবে, শরীরে রোগের বীজ আগত হয়, অঙ্কুরিত হইয়া আত্মপ্রকাশ করে এবং ধীরে ধীরে শরীরাভ্যন্তর নষ্ট করিয়া ফেলিবার চেষ্টা পায় । এইভাবে চিন্তা করিলে স্পষ্টই প্রতীয়মান হইবে, খোসপাঁচড়া, দদ্রু প্রভৃতি চর্মের বা স্থানবিশেষের ব্যাধি নয়, উহারা মানবের আন্তরিক দুর্বলতাই প্রকাশ করে । অতএব আমাদের ভালরূপে জানা উচিৎ ইহাদের আরোগ্যকল্পে উপর হইতে উপরিকথিত চুন আলকাতরা দেওয়ার মতো মলমাদি দেওয়া উচিৎ নয় । কারণ তাহা অজ্ঞতার ও অদূরদর্শিতার পরিচায়ক । তাহার ফল প্রানবিনাশশীল, সর্বনাশকর-আরোগ্য নয় ।
---------------------------------------------------------------------------------
এখন প্রশ্ন হইতেছে, ঐ খোসপাঁচড়া রোগ কিরূপে আরোগ্য করিতে হইবে ? লোকে বলে, ক্লাইসোফ্যানিক এসিড প্রভৃতি প্রয়োগ করিলে ঐ রোগ ২/১ দিনে সারে । কিন্তু তাহা হাঁপানিকাশি, উম্মত্ততা পুরুষত্বহীনতা প্রভৃতি বহু বহু অনিষ্ট আনয়ন করে । উপর হইতে ঔষধ লাগাইবার সময় জ্বালাকর সুতরাং ক্লেশকর । উহা অনিষ্টকর, কারণ চক্ষুতে লাগিলে তাহা নষ্ট হইবার সম্ভাবনা এবং উক্ত রোগ কিছুদিন দেখা না গেলেও, প্রায়ই পুনরায় ফিরিয়া আসে । হ্যানিম্যান বলিতেছেন, এরুপভাবে রোগ সারা সারাই নয় । ইহাকে পবিত্র আরোগ্য নাম দেওয়া যায় না । অন্য দিকে উক্ত জীবনীশক্তির দুর্বলতাসূচক বুঝিয়া, উপর হইতে কিছু না করিয়া, স্বাদগন্ধবিহীন সূক্ষ্মশক্তিসম্পন্ন হোমিওপ্যাথিক ঔষধ স্বল্পমাত্রায় সেবনে যদি ১৫ দিনে সারে, তাহাই বাঞ্ছনীয় নয় কি ? কারণ প্রথমোক্ত ঔষধে ১ । উপরে বাহ্যিক প্রয়োগহেতু রোগের মুল বিনষ্ট হইল না ২। প্রয়োগে যন্ত্রণা ও অনিষ্ট আছে , ৩। অল্পদিনে সারিল বোধ হইল সত্য কিন্তু কিছুদিন পরেই নানা প্রকার গুরুতর আভ্যন্তরিক উপসর্গ আনয়ন করিয়া জীবনকে বিষময় করিয়া তুলিল, অথবা ৪। আবার ভীষণতর বেগে যন্ত্রণাদায়ক দদ্রু বা খোসপাঁচড়ার প্রায়ই পরিবর্তিত আকারে পুনরাবির্ভাব হইল । সুতরাং এরূপ আরোগ্য কেবল কথার কথা মাত্র । হ্যানিম্যানের মতানুযায়ী অর্থাৎ অচিরে, নিরুদ্রপে ও স্থায়ীভাবে সারিল না বলিয়া, ইহাকে কিছুতেই আদর্শ আরোগ্য বলা যাইতে পারেনা । কিন্তু হোমিওপ্যাথিক ঔষধ সেবনে ১ । অল্প সময়ে, এক পক্ষের মধ্যে সারিল, ২। ঔষধ সেবনে কোনও কষ্ট হইল না, ঔষধজনিত কোনও কুফল দেখা গেল না, ৩। খোস দদ্রু প্রভৃতি পরিবর্তিত আকারে আর ফিরিয়াও আসিল না, ৪। রোগী পুনরায় পূর্ণ স্বাস্থ্য পাইল, ৫। আরোগ্যের বিধানও প্রকৃতিক, নিয়মাগুন এবং সুবোধ্য । সুতরাং স্বীকার করিতে হইবে, শেষোক্ত আরোগ্য সর্বাঙ্গসুন্দর । অতএব তাহাই বাঞ্ছনীয় বা আদর্শ আরোগ্য ।
----------------------------------------------------------------------------------
বলুন তো হ্যানিম্যানকথিত ৫ম বিশিষ্টতার আবশ্যকতা কি ? যে বিধানে আরোগ্য সাধিত হইবে, তাহা সহজে বোধ্যগম্য হওয়া আবশ্যক কেন ? কারণ অনেক দৈব বা স্বপ্নাদ্য ঔষধ আছে যাহা ( ক ) শীঘ্র শীঘ্র রোগীকে সুস্থ্য করে, ( খ ) ঔষধ সেবনেও রোগীর কোনও ক্লেশ হয় না, ( গ ) রোগের পুনরাক্রমণও রহিত হয়, ( ঘ ) রোগী তাহার নষ্ট স্বাস্থ্য পুনঃপ্রাপ্তও হয় । কিন্তু তাহাদের আরোগ্যের কৌশল বা কারণ অলৌকিক রহসাজালে
আবৃত এরূপ প্রহেলিকাময় আরোগ্যকে আদর্শ বলা যায় না ।
--------------------------------------------------------------------------------
হ্যানিম্যানের আরোগ্যবিধান সরল প্রকৃতিক নিয়মের উপর সংস্থাপিত । “ সমঃ সমং শময়তি ” – এ মন্ত্র আমাদের আয়ুর্বেদোক্ত পরিচিত এবং অভ্রান্ত ।
কিন্তু এইরূপ অভিপ্রেত আরোগ্য জগতে বিরল কেন ? কেনই বা চিকিৎসকগন তাহা সমস্ত স্থলে দেখাইতে পারেন না ? কারণ আর কিছুই নহে, উপযুক্ত বা জ্ঞানী চিকিৎসকের অভাবই ঐ বিপত্তির কারণ । রোগ নিরাময়কারী চিকিৎসকের সংখ্যা অত্যন্ত অল্প এবং অলস, অর্থপিপাসু রক্তশোষক ঘাতকের সংখ্যাই অধিক । ইহা প্রমান করিবার জন্যই হ্যানিম্যান প্রকৃত চিকিৎসকের এই লক্ষণ বা সংজ্ঞা দিয়াছেন ।
The Barneet Homoeo Care
Dr Sakhoat Hossen . D . H . M . S
Over 32 years of Experience in Treating Acute, Chronic & Complicated Diseases
Sorisha Hati Moor , Main Road, Naogaon
Mob No - 01758 – 030625
০১ – ০৯ – ২০১৫
হোমিওপ্যাথির জনক অর্গাননের ৯৪ নং সূত্রে চিররোগের রোগীর চিকিৎসার সময় কোন কোন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিতে বলেছে , তাহার উপর সামান্য কিছু আলোচনা !
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
অনুচ্ছেদ – চিররোগসমূহের অনুসন্ধানে রোগীর সাধারণ উপজীবিকা, জীবনযাপনের প্রণালী এবং খাদ্য, তাহার সাংসারিক অবস্থা ইত্যাদি সম্যকরূপে বিবেচনা করা এবং পরীক্ষা করা উচিৎ, যাহাতে উত্তেজক বা পরিপোষক কারণ দূর করিয়া আরোগ্য করা যাইতে পারে ।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
সুত্র - চিররোগ সমূহের অবস্থার বিষয়ে অনুসন্ধানকালে, রোগীর সাধারণ কাজকর্ম, আহার ও বসবাসের ধরণ, সাংসারিক অবস্তা প্রভৃতি ভালরূপে তন্ন তন্ন করিয়া দেখা ও বিবেচনা করা উচিৎ । কারণ, সেই সকলের মধ্যে যে গুলির রোগ উৎপাদন এবং পরিপোষণ করিবার প্রবণতা আছে, তাহাদের দূরীকরণ দ্বারা আরোগ্যের উন্নতি হইতে পারিবে ।
--------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
বিস্তারিত – হ্যানিম্যান ৫ম অনুচ্ছেদে এ কথা একবার বলিয়াছেন । কি অচিররোগ, কি চিররোগের চিকিৎসায় চিকিৎসকের কর্তব্য – রোগের প্রধান কারণ স্থির করা । রোগের প্রকৃত প্রধান কারণ সূক্ষ্ম ও সাধারণত তিন প্রকার, যথা আদিরোগবীজ বা সোরা, প্রমেহবীজ বা সাইকোসিস এবং উপদংশবীজ বা সিফিলিস । সোরা বা আদি রোগবীজ আমরা জন্ম হইতেই লাভ করি । উত্তরাধিকারী সুত্রে পিতামাতার সম্পত্তি লাভের সঙ্গে সঙ্গে, তাহাদের রোগবীজগুলিও আমাদের লাভ হয় ।
এই আদিরোগবীজ হইতেই মানবের দুর্বলতা জন্মে । সেই দুর্বলতাবশত আমরা স্বেচ্ছাকৃত কর্মফলেও শেষোক্ত দুইটি রোগাক্রান্ত হই । তাহারা হইল প্রমেহ এবং উপদংশ । ইহাদেরও বিশেষ বিশেষ লক্ষণ আছে । ইহাদেরও অনুসন্ধান করিয়া বাহির করিতে হয় । সেই অনুসন্ধানের কথাই এই অনুচ্ছেদে হ্যানিম্যান বলিতেছেন ।
চিররোগের চিকিৎসায় এরূপ অনুসন্ধান না করিলে উক্ত তিন প্রকার প্রধান কারণ বাহির করা যায় না ।
কি কি অনুসন্ধান করিতে হইবে ? রোগী কি কাজকর্ম করে, কিরুপ আহার করে, কিরুপ ঘরে বাস করে, সাংসারিক অবস্তা কিরুপ ইত্যাদি । ইহা দ্বারা অনেক কথাই বুঝিতে পারা যায় । একজন বহুদিন হইতে পেটের অসুখে ভুগিতেছিল । সকালে ২/৪ বার তরল দাস্ত হয় । সালফার, সোরিনাম, পডোফাইলাম প্রভৃতি ঔষধ খাইয়াছে, কিছুতেই উপকার হয় নাই । আমাদের নিকট তাহাকে লইয়া আসিলে আমরা জিজ্ঞাসা করিলাম –
* কি কাজ করেন ? – একটি শ্যাকরার দোকানে ।
* কোন স্থানে ? – কোন এক বেশ্যা পল্লীর নিকট ।
এখন এই দুইটি প্রশ্ন যে হ্যানিম্যান করিতে বলিয়াছেন, তাহা দ্বারা কোনও উপকার হইল কিনা ?
উক্ত দুইটি প্রশ্নের উত্তরে যাহা পাওয়া গিয়াছে, তাহার পর তৃতীয় প্রশ্ন হইতে পারে না কি ?
* তোমার স্বভাবচরিত্র কিরুপ, কোনরূপ কুরোগ হইয়াছিল কি ? – স্বভাব ভাল, তবে অনেকদিন পূর্বে একবার উপদংশ রোগ হয় । তাহাতে “ মুখ আনাইয়া ” অর্থাৎ পারদ ব্যবহারে আরাম হই ।
আমরা জানিয়াছি, রোগের উৎপাদক কারণ উপদংশ ও পারদ ব্যবহার । এক্ষণে পরিপোষক কারণ কিছু পাওয়া যায় কি না, অনুসন্ধান করিতে হইবে । তাহাতে দেখা গেল, লক্তি বসিয়া বসিয়া অনেকক্ষণ কাজ করে, রাত্রি জাগরণ করে এবং অনিয়মিত আহার করে । সুতরাং তাহাও দূর করিতে হইবে । এই সকল বিবেচনা করিয়া আমরা তাহাকে এসিড নাইট্রিক ২০০ একমাত্রা এবং দুই মাস পরে ১০০০ শক্তি একটি খুদ্রমাত্রা প্রয়োগ করি । তাহাতেই রোগী যতদূর সম্ভব আমাদের কথিত নিয়ম প্রতিপালন করিয়া আরোগ্য লাভ করিল ।
অতএব হ্যানিম্যানের এই উপদেশ যে অমূল্য তাহা স্বীকার করিতেই হইবে ।
তথ্য সুত্র – হ্যানিম্যানের “ অর্গানন ” বা হোমিওপ্যাথি – বিজ্ঞানের বঙ্গানুবাদ ও বিস্তৃত ব্যাখ্যা ।
- ডাক্তার জি, দীর্ঘাঙ্গী ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Arsenic Album Benefits and Side Effects!

http://www.ihomeopathic.com/2017/04/arsenic-album-benefits-and-side-effects.html#more Arsenic Album 30 is the most commonly used remed...