মঙ্গলবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৭

অর্গানন আব মেডিসিন=== ভুমিকা বা মুখবন্ধ=== সহযোগীতায়: ডা: রাসেল নিপুন

অর্গানন আব মেডিসিন
ভুমিকা বা মুখবন্ধ
সহযোগীতায়: ডা: রাসেল নিপুন
বাংলা ভাষায় হোমিওপ্যাথি শেখার জন্য “অর্গানন অভ্ মেডিসিন” এর অনেক বঙ্গানুবাদ আছে। অনেকগুলোতে অনুবাদক সূত্রের ব্যাখ্যা করেছেন। অতএব বাজারের চাহিদা পূরণ করা আমার লক্ষ্য নয়। কিংবা অন্যান্য অনুবাদের সাথে প্রতিযোগিতা করাও আমার লক্ষ্য নয়। আমি সারাজীবন একনিষ্ঠভাবে হোমিওপ্যাথিক মৌলিক বইপুস্তক অধ্যয়ন করেছি। পেশার চেয়ে নেশা হিসাবেই আমি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় নিয়োজিত আছি। আমার উদ্দেশ্য ছিল হোমিওপ্যাথির গভীরে প্রবেশ করা। এতদুদ্দেশ্যে আমি হোমিওপ্যাথিক মৌলিক পুস্তকগুলো গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছি। সর্বশেষ বুঝতে পেরেছি জ্ঞান সমুদ্রের কোন কিনারা নেই। অতএব কোন পাড়ে পৌছা সম্ভব নয়। তবে অধিক চর্চার ফলে সীমিত কিছু জ্ঞান অর্জন করেছি। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতিতে আমার সীমিত জ্ঞানের সীমানা বুঝার জন্যই আমি এ-বইটি অনুবাদসহ ব্যাখ্যা করেছি। নিছক আমার আত্মতৃপ্তির জন্য আমার এ-সাধনা। আমি “অর্গানন অভ্ মেডিসিন” বইটি সম্পর্কে যতটা বুঝতে পেরেছি তাতে দেখেছি যে, বইটির বিষয়বস্তু দুইভাগে বিভক্ত। অর্গাননের শুরুতেই হ্যানিম্যান চিকিৎসাপদ্ধতির নীতি, আদর্শ, দায়িত্ব, কর্তব্য, এবং আরোগ্যের প্রকৃত অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন। এছাড়াও তিনি এ-বইটিতে প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতির ত্রুটি ও অসারতা এবং হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতির সত্যতা এবং সাফল্য ব্যাখ্যা করেছেন। তাই এ-বইটিতে হোমিওপ্যাথিক নীতি-আদর্শ এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রাচীন ইতিহাস পাশাপাশি এসেছে। আমি সূত্রের অনুবাদ হুবহু করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু পাদটীকায় যেখানে প্রাচীন চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে সেখানে আমি খুব সংক্ষেপ করেছি এই কারণে যে, পাদটীকা পাঠের প্রতি অনেকের আগ্রহ কম। অপরদিকে যুগে-যুগে যখন নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয় তখন পুরাতনের প্রতি মানুষের আগ্রহ কমে যায়। এ-যুগে হোমিওপ্যাথির প্রতিযোগিতা আধুনিক এ্যালোপ্যাথির সাথে। বর্তমান ইতিহাসের পাতায় আমরা হোমিওপ্যাথিকে কতটা সম্মানের আসনে নিতে পারি তাই আমাদের সাধনা।
মূলত চিকিৎসাকার্য একটি কঠিন পেশা। এটি চিকিৎসকের গভীর মনোযোগ ও একনিষ্ঠতা দাবী করে। তাই হ্যানিম্যান “অর্গানন অভ্ মেডিসিন” এর ১ নম্বর সূত্রে চিকিৎসাকার্যকে “Mission” বলেছেন। অন্যকোন পেশার ফাঁকে চিকিৎসাকার্য পরিচালনা করা যায় না। এটি পেশা হলেও নেশাজাতীয় পেশা। অপরিসীম ধৈর্য এবং সাধনা এ-পেশায় সফলতা দিতে পারে। কিন্তু সাধনায় ধৈর্য রক্ষার জন্য আবশ্যক প্যাথির প্রতি অগাধ বিশ্বাস। হ্যানিম্যান ১০৯ নম্বর সূত্রে যেমন বলেছেন, “Which I have pursued with a perseverance that could only arise and be kept up by a perfect conviction of the great truth.” যদি কেউ এ-পেশায় ধৈর্যের সাথে সাধনা করতে চায় তাহলে তাকে এ-পদ্ধতির প্রতি গভীর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে। হোমিওপ্যাথি একটি নতুন বিশ্বাস। এটি এ্যালোপ্যাথির বিপরীত। হ্যানিম্যান বলেন, “That is as much its antithesis as night is to day.” এ্যালোপ্যাথির সাথে এর সম্পর্ক দিন এবং রাতের মতো। দিনের আগমনে রাত বিদায় নেয় এবং রাতের আগমনে দিন বিদায় নেয়। তদ্রূপ চিন্তার মধ্যে যদি এ্যালোপ্যাথি থাকে তাহলে হোমিওপ্যাথি থাকে না। হোমিওপ্যাথিক চিন্তা, চেতনা, বিচার-বিশ্লেষণ, কথা-বার্তা, কার্যকলাপ সবই এ্যালোপ্যাথির বিপরীত। অতএব এ্যালোপ্যাথিক বিশ্বাস বা সংস্কার মাথা থেকে সরিয়ে দিতে না পারলে হোমিওপ্যাথিক বিশ্বাস বা সংস্কার মাথায় ঢুকবে না। তাই হ্যানিম্যান সংস্কারমুক্ত মন নিয়ে চিকিৎসাপ্রণালী পর্যবেক্ষণ করতে বলেছেন।
রোগ সম্পর্কে মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বাস বর্জন করে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। এ্যালোপ্যাথিতে রোগ মানে অঙ্গের অনুভূতি এবং ক্রিয়াকলাপের বিশৃঙ্খলা। হোমিওপ্যাথিতে রোগ মানে জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা। অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনুভূতি এবং ক্রিয়াকলাপে এটি প্রকাশিত হয় মাত্র। অতএব জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা বুঝার জন্য জীবনীশক্তি কর্তৃক প্রকাশিত বিশেষ ধরণের সংকেতগুলো চিনতে হবে। শুধুমাত্র অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অনুভূতি এবং কার্যকলাপ দিয়ে তা বুঝা যাবে না। এ্যালোপ্যাথি জীবনীশক্তিকে স্বীকার করে না। কিন্তু রোগ-প্রতিরোধ শক্তিকে মেনে নেয়। রোগ-প্রতিরোধ জীবনীশক্তির একটি কাজ মাত্র। অতএব হোমিওপ্যাথি বুঝার জন্য আগে জীবনীশক্তি বুঝতে হবে। অর্গাননে ১-৭০ নম্বর সূত্র পর্যন্ত হ্যানিম্যান জীবনীশক্তি সম্পর্কে বহু কথা বলেছেন। তার সকল কথাই স্বপ্রমাণিত এবং চিরসত্য। এরপর ৭২-১০৪ নম্বর সূত্রসমূহে রোগী পর্যবেক্ষণের কৌশল বলা হয়েছে। কিভাবে রোগের লক্ষণসমূহ জানতে হবে এবং রোগীর সাথে প্রশ্ন-উত্তর কিরূপ হবে এবং রোগীলিপি কিভাবে লিখতে হবে তা বিস্তারিতভাবে এ-সূত্রসমূহে বলা হয়েছে। রোগীলিপি লেখা হোমিওপ্যাথির সবচেয়ে কঠিন কাজ। এটি সুন্দর এবং সফলভাবে সম্পন্ন হলে পরবর্তি কাজ রোগের চরিত্রগত লক্ষণ ভিত্তিক একটি যথার্থ ঔষধ নির্বাচন খুব সহজে হয়ে যাবে। কারণ কোন রোগীতে রোগের চরিত্রগত লক্ষণ দু-চারটার বেশি থাকে না। এরপর ১০৫-১৪৫ নম্বর সূত্রসমূহে ঔষধ পরীক্ষার কলাকৌশল এবং ঔষধের শ্বাশত চরিত্র জানা এবং বুঝার জন্য যা কিছু আবশ্যক তা বলা হয়েছে। অর্গাননের এ-অধ্যায় থেকে ঔষধ সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারলে রেপার্টরী এবং মেটিরিয়া মেডিকা বুঝতে মোটেও কষ্ট হবে না। এরপর অর্গাননের ১৪৬-২৮৫ নম্বর সূত্রসমূহে চিকিৎসার কৌশল সংক্রান্ত সব কথা বলা হয়েছে। যেমন বিশৃঙ্খলিত জীবনীশক্তি কর্তৃক প্রকাশিত বিশেষ ধরনের সংকেতগুলো কী এবং কেমন তা বলা হয়েছে ১৫৩ নম্বর সূত্রে। ২৪৮ নম্বর সূত্রে এবং এর পাদটীকায় (নং-১৩৪) ঔষধ প্রয়োগের নিয়মকানুন বলা হয়েছে। রোগীর উপর ঔষধের ক্রিয়া পর্যবেক্ষণের মানদন্ড বর্ণনা করা হয়েছে ২৫৩ নম্বর সূত্রে এবং এর পাদটীকায় (নং-১৩৮)। পথ্যাদি সম্পর্কে বলা হয়েছে ২৫৯-২৬৩ নম্বর সূত্রসমূহে এবং ১৩৯ নম্বর পাদটীকায়। নতুন আবিষ্কৃত পঞ্চাশ সহস্রতমিক শক্তির ঔষধ প্রস্তুত পদ্ধতি বর্ণনা করা হয়েছে ২৭০ নম্বর সূত্রে। জীবনীশক্তির সংবেদনশীলতার মাত্রা অনুযায়ী ঔষধের মাত্রা প্রয়োগের বিধান বর্ণনা করা হয়েছে ২৮১ নম্বর সূত্রে। এভাবে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসাসংক্রান্ত যাবতীয় নির্দেশনা এ-অর্গাননের বিভিন্ন সূত্রে দেয়া হয়েছে। মনোযোগ সহকারে বারবার অর্গানন বইটি পাঠ করলে হোমিওপ্যাথি পরিপূর্ণভাবে আয়ত্তে আসবে।
একশ্রেণির হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক আছেন যারা “অর্গানন অভ্ মেডিসিন” বইটি পাঠ করেন না এবং পাঠের প্রয়োজনবোধ করেন না। তারা হোমিওপ্যাথিক মেটিরিয়া মেডিকা মুখস্থ করেন এবং তাদের কাছে রোগী আসলে তারা মেটিরিয়া মেডিকার লক্ষণগুলো রোগীতে খুঁজতে থাকেন। যে ঔষধটির প্রধান কয়েকটি লক্ষণ রোগীর মধ্যে পাওয়া যায় তারা রোগীকে সেই ঔষধটি সেবন করতে দেন। মেটিরিয়া মেডিকা ভিত্তি করে যারা রোগীর মধ্যে লক্ষণ অনুসন্ধান করেন তারা সর্বদা ঔষধের কীনোট লক্ষণ ব্যবহার করেন। ঔষধের শর্তহীন ক্রিয়া কর্তৃক সৃষ্ট লক্ষণগুলোকে তারা কীনোট লক্ষণ মনে করেন। কিন্তু শর্তাধীনভাবে বিশিষ্ট ধাতে সৃষ্ট লক্ষণগুলোও ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ হিসাবে স্বীকৃত। অর্থাৎ ঔষধ কর্তৃক সৃষ্ট সকল লক্ষণই উক্ত ঔষধের চরিত্রগত লক্ষণ (সূত্র-১৩৮ দ্রষ্টব্য)। অতএব যারা ঔষধের অধিকাংশ লক্ষণ বাদ দিয়ে কতিপয় লক্ষণকে কীনোট বানিয়ে নেন তারা হোমিওপ্যাথি বুঝতে পারেন নি। তাদের হাতে কোন রোগী হোমিওপ্যাথিক আরোগ্য আশা করতে পারে না। হ্যানিম্যানিয়ান হোমিওপ্যাথি থেকে এ-পদ্ধতি অনেক দূরে এবং এ্যালোপ্যাথির নিকটবর্তী। কারণ এ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসাপদ্ধতির সূত্র হলো কোন্ ঔষধে কোন্ রোগ ভাল হয়। কীনোট চিকিৎসকগণ সর্বদা জানার চেষ্টা করেন কোন্ ঔষধে কোন্ রোগ ভাল হয়। এ-ক্ষেত্রে যতবেশি ঔষধের কীনোট লক্ষণ মুখস্থ থাকে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ততবেশি সুবিধা হয়। গভীরভাবে রোগী পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন তাদের হয় না। অথচ হ্যানিম্যান বলেছেন যে, “When we have found out the disease, our next step is to search for the remedy.” অর্থাৎ, আগে সঠিকভাবে রোগীলিপি লিখতে হবে তারপর তা থেকে রোগের চরিত্রগত লক্ষণ নির্ণয় করতে হবে। তারপর উক্ত লক্ষণগুলো মেটিরিয়া মেডিকায় খুঁজতে হবে। কিন্তু এ-শ্রেণির চিকিৎসকগণ উল্টো কাজ করেন। তারা মেটিরিয়া মেডিকার লক্ষণগুলোই রোগীতে খুঁজতে থাকেন। তারপর যখন কোন ঔষধের সদৃশ লক্ষণ রোগীতে পেয়ে যান তখন উক্ত ঔষধটি রোগীকে দেন। ঔষধটি লক্ষণ ভিত্তিক নির্বাচিত বটেই কিন্তু পদ্ধতিগত ভুলের কারণে এরূপভাবে নির্বাচিত ঔষধটি কদাচিৎ যথার্থভাবে উপযোগী হবে। কারণ নির্বাচিত ঔষধটির যেলক্ষণগুলো রোগীর রোগলক্ষণসমূহের সদৃশ হলো সেলক্ষণগুলো রোগের লক্ষণ বটেই কিন্তু যদি রোগের চরিত্রগত লক্ষণ না হয় তাহলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঔষধটি শুধুমাত্র লক্ষণভিত্তিক উপযোগী হবে। কিন্তু রোগের লক্ষণসমষ্টি প্রায়ই এর অন্তর্ভুক্ত হবে না। রোগের লক্ষণসমষ্টির মধ্যে নিহিত থাকে সাকুল্য ব্যাধি। তার ফলে লক্ষণ দূর হবে কিন্তু সাকুল্য ব্যাধির আরোগ্য এবং রোগীর স্বাস্থ্যের প্রত্যাবর্তন হবে না এবং রোগীর পরিপূর্ণ সুস্থতা আসবে না। কিন্তু অর্গানন ভিত্তিক রোগীর সর্বাঙ্গীণ পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যদি রোগীলিপিতে নিরূপিত রোগের চরিত্রগত লক্ষণসমূহ অর্থাৎ লক্ষণসমষ্টি ভিত্তিক যথার্থ সদৃশ ঔষধ নির্বাচন করা হয় তাহলে রোগী দ্রুত, শান্ত এবং স্থায়ীভাবে আরোগ্য হবে এবং রোগীর স্বাস্থ্যের প্রত্যাবর্তন হবে।
মোদ্দাকথা, “অর্গানন অভ্ মেডিসিন” নামক বইটিই হোমিওপ্যাথি। এর বাইরে কোন হোমিওপ্যাথি নেই। তবে বইটি খুব সহজও নয় এবং খুব কঠিনও নয়। সংস্কারমুক্ত মন নিয়ে বইটি বার-বার পড়তে হবে। পাঠকের ভাষাজ্ঞান অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ ভাষা জ্ঞানের দরজা।
এখানে একটি কথা বলা আবশ্যক যে, এ-পুস্তকটি মৌলিকভাবে জার্মান ভাষায় লেখা। তা থেকে ইংরেজীতে ভাষান্তর হয়েছে। ইংরেজী থেকে করা হয়েছে বঙ্গানুবাদ। প্রত্যেক ভাষার স্বকীয়তা আছে। এর ফলে অনুবাদে ভাষান্তর হয় বটে কিন্তু ভাবান্তর করা খুব কঠিন। হ্যানিম্যানের হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত মনোভাব বুঝার জন্য আমি তার লেখা হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত ৪টি পুস্তক- অর্গানন অভ্ মেডিসিন, দি ক্রনিক্ ডিজীজ্, মেটিরিয়া মেডিকা এবং দি লেসার রাইটিংস গভীরভাবে অধ্যয়ন করেছি এবং এসব পুস্তক থেকে তার মূল্যবান উক্তিগুলো আমি অর্গাননের সূত্রের ব্যাখ্যায় ব্যবহার করেছি যাতে আমি ভাববিচ্যুত না হই। কিন্তু জ্ঞানের গভীরতার যেমন শেষ নেই তেমনি ভাবের গভীরতারও শেষ নেই। অতএব এ-অর্গানন বুঝার শেষ সীমানা নেই। ডা. কেন্ট বলেছেন যে, আমি দীর্ঘ ২৫ বছর পোস্ট গ্র্যাজুআট্ স্কুলে অর্গানন পড়ায়েছি। তথাপি যখনি অর্গাননের কোন সূত্র পাঠ করি তখনি তা আমার কাছে নতুন মনে হয়। অতএব বইটির তত্ত্বের গভীরতা খুব বেশি। বইটি যে যতবেশি পড়বেন সে ততবেশি গভীরে যেতে পারবেন। এ-বইটি সহজবোধ্য করার জন্য আমি প্রত্যেক সূত্রের বক্তব্য খুব সংক্ষেপে সূচিপত্রে উল্লেখ করেছি এবং সূত্রের অনুবাদের পরে আমি আমার জ্ঞান অনুসারে সূত্রের বক্তব্য আরো বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছি। একই বিষয়বস্তু তিন স্তরে বর্ণিত বিধায় বুঝতে সহজ হবে। তবে বইটি বুঝার উদ্দেশ্যে পড়তে হবে এবং মেটিরিয়া মেডিকা ও রেপার্টরীর পাশাপাশি বইটি সারাজীবনই পড়তে হবে। কারণ এ-তিনটি পুস্তকই একটি অন্যটির সহায়ক এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে অত্যাবশ্যক।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এ বইটি সফলভাবে প্রয়োগ করার জন্য বইটির প্রত্যেকটি সূত্রের বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে বুঝতে হবে এবং সামগ্রিকভাবেও বুঝতে হবে। অর্থাৎ অর্গাননের স্বতন্ত্র সূত্রগুলোকেও সমষ্টিগতভাবে চিন্তা করতে হবে এবং অর্গাননের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জন করতে হবে। তাহলেই অর্গানন নামক বইটি সফলতার সাথে বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে। হ্যানিম্যান বলেছেন যে, “চিকিৎসাবিজ্ঞান একটি পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান এবং তা এ-বইটিতে ব্যক্ত করা হয়েছে।” দি লেসার রাইটিংস পুস্তকে “On the preparation and dispensing of medicines by the homœopathic physician” প্রবন্ধের দ্বিতীয় অংশে ৭০৫ পৃষ্ঠায় তিনি বলেছেন যে, “An entirely new system of medicine, called by its founder Homœopathy, and taught in the book entitled Organon of Medicine. This system of medicine, which, as the book teaches, is much more consonant to nature, and as its results shew, is much more successful, is the direct opposite of the ordinary treatment.” অর্থাৎ, “সম্পূর্ণ নতুন চিকিৎসাপদ্ধতি, এর প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক অভিহিত হোমিওপ্যাথি, এবং শিক্ষা দেয়া হয়েছে অর্গানন অভ্ মেডিসিন নামক পুস্তকে। এ-চিকিৎসাপদ্ধতি, যা পুস্তকটি শিক্ষা দেয়, প্রকৃতির সাথে খুব বেশি সঙ্গতিপূর্ণ, এবং এর ফলাফল, খুব বেশি সাফল্যমন্ডিত, সাধারণ চিকিৎসার সরাসরি বিপরীত।”
মুখবন্ধ শেষ ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Arsenic Album Benefits and Side Effects!

http://www.ihomeopathic.com/2017/04/arsenic-album-benefits-and-side-effects.html#more Arsenic Album 30 is the most commonly used remed...