https://www.facebook.com/permalink.php?story_fbid=660814004100974&id=659714340877607
অর্গানন সুত্র নং -৩
বাংলা ব্যাখ্যা সহ
If the physician clearly perceives what is to be cured in diseases, that is to say, in every individual case of disease (knowledge of disease, indication), if he clearly perceives what is curative in medicines, that is to say, in each individual medicine (knowledge of medicinal powers), and if he knows how to adapt, according to clearly defined principles, what is curative in medicines to what he has discovered to be undoubtedly morbid in the patient, so that the recovery must ensue—to adapt it, as well in respect to the suitability of the medicine most appropriate according to its mode of action to the case before him (choice of the remedy, the medicine indicated), as also in respect to the exact mode of preparation and quantity of a required (proper dose), and the proper period for repeating the dose;—if, finally, he knows the obstacles to recovery in each case and is aware how to remove them, so that the restoration may be permanent: then he understands how to treat judiciously and rationally, and he is a true practitioner of the healing art.
সূত্র-০৩, চিকিৎসক যদি স্পষ্টভাবে বুঝে রোগে কী আরোগ্য করতে হবে, অর্থাৎ, প্রত্যেক স্বতন্ত্র রোগে কী আরোগ্য করতে হবে (রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, লক্ষণ), যদি সে স্পষ্টভাবে বুঝে ঔষধে কী আরোগ্য হয়, অর্থাৎ, প্রত্যেক স্বতন্ত্র ঔষধে কী আরোগ্য হয় (ঔষধের আরোগ্যক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান), এবং যদি সে জানে, ঔষধে যা আরোগ্য হয় তা কিভাবে রোগীর মধ্যে সে সন্দেহাতীতভাবে যে রোগচিত্র আবিষ্কার করেছে তার সাথে স্পষ্টভাবে বর্ণিত নীতি অনুসারে সমন্বয় করতে হবে, যাতে আরোগ্য নিশ্চিতভাবে আসন্ন হয়—তবে সমন্বয় এমনভাবে করতে হবে যেন ঔষধটির ক্রিয়াধারা অনুসারে উপযোগিতার দিক দিয়ে উপস্থিত রোগীর ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক উপযুক্ত হয় (ঔষধ নির্বাচন, ঠিক নির্দিষ্ট ঔষধটি), এ-ছাড়াও ঔষধের সঠিক প্রস্তুতপ্রণালী ও রোগীর জন্য আবশ্যকীয় পরিমাণ (যথার্থ মাত্রা) সম্পর্কে তার যদি জ্ঞান থাকে এবং যদি মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের যথার্থ সময় সে বুঝে;—পরিশেষে প্রত্যেকটি রোগীর ক্ষেত্রে আরোগ্যের বাধাগুলো যদি সে জানে এবং কিভাবে তা অপসারণ করে আরোগ্য স্থায়ী করা যায় সেই বিষয়ে যদি সে সচেতন হয়, তাহলে সে-ই বুঝে কিভাবে ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গতভাবে চিকিৎসা করতে হয় এবং সেই এ-আরোগ্যকলার সত্যনিষ্ঠ ব্যবহারবিদ।
ব্যাখ্যা:- এ-সূত্রটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জ্ঞাতব্য বিষয় সম্পর্কে একটি সূচীপত্র। এ-বিষয়গুলো সম্পর্কে পরবর্তী সূত্রসমূহে পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশের পথ সহজ করার জন্য আমি এখানে ৩ নম্বর সূত্রের বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত ধারণা ব্যক্ত করছি।
বিষয়
ক) রোগে কী আরোগ্য করতে হবে তা বুঝার জন্য রোগীর লক্ষণচিত্রই যথেষ্ট। রোগ মানে জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা। জীবনীশক্তি অদৃশ্য এবং এর গোপন রহস্য অজ্ঞাত। আমরা শুধু এর ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করি। আমাদের দেহটা এর বাহন। কাজেই জীবনীশক্তি সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এ-দেহযন্ত্রের অনুভূতি ও কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে। হ্যানিম্যান তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আবিষ্কার করেছেন যে, দেহযন্ত্রের সকল প্রকার অনুভূতি ও কার্যকলাপের অস্বাভাবিক অবস্থা জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলার মূর্ত প্রতিচ্ছবি। এর মধ্যেই রোগে কী আরোগ্য করতে হবে তা খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্য কোনোভাবে এত নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে না।
খ) ঔষধ কী আরোগ্য করে-এর উত্তরে প্রথমেই বলতে হয় যে, সুস্থদেহে ঔষধ কী কী লক্ষণ সৃষ্টি করে। সুস্থ দেহে ঔষধ পরীক্ষার লক্ষ্যে শক্তিকৃত ঔষধ সেবনে যে যে লক্ষণ সৃষ্টি হয়, সে ঔষধ অসুস্থ শরীরের সেই সেই লক্ষণ আরোগ্য করে। সেইহেতু রোগ ও ঔষধের ক্ষেত্রে Individualization বা স্বতন্ত্রকরণ অতি আবশ্যক।
গ) রোগচিত্র ও ঔষধচিত্রের মধ্যে সাদৃশ্য নিরূপণ করা একটি শৈল্পিক কাজ। শিল্পীর আঁকা ছবি যদি হুবহু প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে তাকে আমরা ঐ বস্তুর ছবি বলি। অন্যথায় তা একটি অঙ্কন মাত্র। এ-সূত্রে হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথিকে একটি আরোগ্যকলা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের ঔষধের চিত্রটি হৃদয়ে এঁকে রাখতে হবে এবং তিনি কোনো রোগীর রোগচিত্র অঙ্কন করার পর তার হৃদয় থেকে অনুরূপ চিত্রের ঔষধটি খুঁজে নিবেন।
ঘ) ঔষধ প্রস্তুতপ্রণালী সম্পর্কে হ্যানিম্যান যেরূপ নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে কাজ করতে হবে। তা হলে সঠিক ঔষধ প্রস্তুত হবে।
ঙ) Dose বা মাত্রা কথাটি নিয়ে হোমিওপ্যাথিতে অনেক বিতর্ক আছে। আমার মনে হয় ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি না দেয়ার ফলে এ-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই জানেন, ডোজ মানে একবারে সেবনের জন্য ঔষধের পরিমাণ। এ-সূত্রে বলা হয়েছে, "quantity of a required” (Proper dose); এখানে পরিমাণ শব্দটি বস্তুবাচক। প্রাক-হ্যানিম্যান যুগে, এমনকি হ্যানিম্যানের সময় চিকিৎসা ক্ষেত্রে বস্তুগত ধারণা প্রবল ছিল। হ্যানিম্যান নিজেও প্রথম অবস্থায় grain dose থেকে ধাপে ধাপে Devided ডোজ করে প্রতি মাত্রায় ঔষধের পরিমাণ কমাতে থাকেন। তিনি পরে হোমিওপ্যাথিক শক্তিবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে ষষ্ঠ শক্তিতে ঔষধ প্রস্তুত করেন। পৃথক পৃথক রোগীতে Sepia, Lycopodium এবং Silicea ৬ শক্তিতে ৪ থেকে ৬ টা করে বড়ি প্রতি ডোজে ব্যবহার করে তিনি ঔষধজনিত বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন। এবং ষষ্ঠ শক্তির এরূপ ডোজকে তিনি বৃহৎ মাত্রা বলে ত্যাগ করেন (চিররোগগ্রন্থ পৃষ্ঠা নম্বর-১২০, পাদটীকা দ্রষ্টব্য)।
অর্গাননের ষষ্ঠ সংস্করণের ভূমিকায় তিনি ডোজ সম্পর্কে বলেন যে, “and this it administers to the patient in simple form, but in rare and minute doses so small that, without occasioning pain or weakening, they just suffice to remove the natural malady whence this result; ” page-21, Organon, Boericke. অর্থাৎ, “হোমিওপ্যাথি প্রত্যেক রোগীতে সরল আকারে ঔষধ প্রদান করে, কিন্তু ঘন ঘন নয় এবং এত ক্ষুদ্র মাত্রায় যেন তা রোগীকে কষ্ট না দিয়ে অথবা দুর্বল না করে প্রাকৃতিক ব্যাধি অপসারণ করার জন্য যথেষ্ট হয়।” ডোজ সম্পর্কে হ্যানিম্যানের মত সর্বজনীন এবং উন্মুক্ত। দেশ-কাল-পাত্রভেদে রোগীকে কষ্ট না দিয়ে রোগ আরোগ্য করার জন্য যতটুকু ঔষধ আবশ্যক তা-ই যথার্থ ক্ষুদ্র মাত্রা।
চ) ঔষধের ডোজ পুনঃপ্রয়োগ করার ক্ষেত্রে যথার্থ সময় সম্পর্কে চিকিৎসকের জ্ঞান থাকতে হবে। বিষয়টি জটিল ও এর জন্য তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ জ্ঞান আবশ্যক। প্রথম মাত্রা ঔষধ সেবনের কত ঘণ্টা বা কত দিন পর দ্বিতীয় মাত্রা প্রয়োগ করতে হবে অথবা পর পর মাত্রাগুলো কখন কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা অগ্রিম নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টি আপেক্ষিক। রোগীর অবস্থাভেদে মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের বিষয়টি নির্ণয় করতে হয়।
ছ) আরোগ্যের পথে নানা রকম বাধা থাকতে পারে। যেমন- রোগীর বাসস্থান, জীবনযাত্রার ধরণ, কার্যকলাপ, আহার, কু-অভ্যাস, উগ্র প্রসাধনী, অন্যকোনো ঔষধ, ঔষধযুক্ত দাঁতের মাজন ইত্যাদি। এ-সব বাধা অপসারণের ব্যাপারে চিকিৎসক সচেতন থাকবেন এবং বাধা অপসারণের ব্যবস্থা করবেন।
$&&&&&&&$&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
মানবজীবন সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ।
সেই জীবনের ভালো মন্দের দায়িত্ব চিকিৎসকে গ্রহন করিতে হয়।
এই জন্যই এই গুরু দায়িত্ব গ্রহন করিবার আগে চিকিৎসকের যথেষ্ট প্রস্তুুতি থাকা প্রয়োজন।
চিকিৎসার গুরুদায়িত্ব গ্রহন করিবার আগে আদর্শ চিকিৎসকের কি কি বিষয়ে জ্ঞান থাকিতে হইবে,তা মহাত্মা হ্যানিম্যান বিশেষভাবে আলোচনা করিয়াছেন।
তাই একজন আদর্শ চিকিৎসকের এই গুনাবলী থাকা প্রয়োজন।
১/ রোগ সম্বন্ধে জ্ঞান।
২/ ঔষধের আরোগ্যকারী শক্তি সমন্ধে জ্ঞান।
৩/ ঔষধ প্রয়োগ সম্পর্কিত জ্ঞান।
৪/ আরোগ্যের বিঘ্নসমূহ দূর করার জ্ঞান।
এই সব বিষয়ে খুবই মূল্যবান আলোচনা করেছেন প্রিয় ডাঃরাসেল ভাই।
@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@
বিচ্ছিন্ন লিখা :
চিকিৎসা মানুষের কল্যাণের জন্য। কোনো চিকিৎসায় যদি মানুষের অকল্যাণ হয় তাহলে তা পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। সমূলে রোগ আরোগ্য করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়ীত্ব। তা যদি তিনি না পারেন সে ক্ষেত্রে তিনি এমনভাবে কাজ করবেন যাতে রোগীর অন্তত কোনো ক্ষতি না হয়। আমার বিশ্বাস মহাত্মা হ্যানিম্যানের ‘অর্গানন অভ্ মেডিসিন’ এবং চিররোগগ্রন্থটি যিনি অধ্যয়ন এবং অনুসরণ করবেন তিনি অবশ্যই পীড়িত মানুষদের উপকার করতে সক্ষম হবেন।
@@@9@@@@@@@@@@@@@@@@@$$$$$
৩নং সুত্র ঃ –
(ক ) রোগে কি আরোগ্য করিতে হইবে যদি চিকিৎসক তাহা পরিষ্কাররূপে বুঝিতে পারেন, অর্থাৎ প্রত্যেক রোগ যে সকল লক্ষণ দ্বারা সুচিত হয়, সেই লক্ষণগুলি সম্বন্ধে যদি তাঁহার সম্যক, জ্ঞান থাকে ( রোগ সম্বন্ধে জ্ঞান, অভিজ্ঞান ), ( খ ) প্রত্যেক ঔষধের কি কি লক্ষণ দ্বারা তাহার রোগ দূর করিবার শক্তি প্রকাশিত হয়, যদি তিনি তাহা পরিষ্কারভাবে বুঝিতে পারেন এবং ( গ ) যদি যাহা তিনি নিঃসন্দেহে রোগীর অসুস্থতাব্যঞ্জক বলিয়া জানিয়াছেন, তাহার সহিত প্রকৃষ্টরূপে নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে ঔষধের আরোগ্যকারী শক্তিকে এরূপভাবে যোজনা করিতে জানেন যে তদ্বারা নিশ্চয়ই আরোগ্যের সুত্রপাত হইবে – অর্থাৎ 1 . ঔষধকে ইহার ক্রিয়া প্রণালী অনুযায়ী উপস্থিত রোগের সর্বাপেক্ষা উপযোগী করিয়া প্রয়োগ করিতে ( ঔষধ নির্বাচন, সুচিত ঔষধ ), 2 . উপযুক্ত প্রস্তুতপ্রণালী, 3 . ও তাহার প্রয়োজনীয় পরিমাণ ( উপযুক্ত মাত্রা ) এবং 4 . প্রথম প্রয়োগ ও পুনঃপ্রয়োগের উপযুক্ত সময় – এ কয়টি বিষয় যদি তাহার বিধিমত প্রকারে জানা থাকে এবং পরিশেষে, ( ঘ ) আরোগ্যবিষয়ে যাহা যাহা বাধাস্বরূপ তাহাদের এরূপভাবে দূর করিতে পারেন যে, পুনঃ প্রবর্তিত স্বাস্থ্য চিরস্থায়ী হয় তবেই তিনি কিরূপে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিযুক্তভাবে চিকিৎসা করিতে হয় তাহা জানেন এবং তিনিই প্রকৃত আরোগ্য-কৌশলজ্ঞ চিকিৎসক ।
§ 3
If the physician clearly perceives what is to be cured in diseases, that is to say, in every individual case of disease (knowledge of disease, indication), if he clearly perceives what is curative in medicines, that is to say, in each individual medicine (knowledge of medical powers), and if he knows how to adapt, according to clearly defined principles, what is curative in medicines to what he has discovered to be undoubtedly morbid in the patient, so that the recovery must ensue - to adapt it, as well in respect to the suitability of the medicine most appropriate according to its mode of action to the case before him (choice of the remedy, the medicine indicated), as also in respect to the exact mode of preparation and quantity of it required (proper dose), and the proper period for repeating the dose; - if, finally, he knows the obstacles to recovery in each case and is aware how to remove them, so that the restoration may be permanent, then he understands how to treat judiciously and rationally, and he is a true practitioner of the healing art.
অর্গানন সুত্র নং -৩
বাংলা ব্যাখ্যা সহ
If the physician clearly perceives what is to be cured in diseases, that is to say, in every individual case of disease (knowledge of disease, indication), if he clearly perceives what is curative in medicines, that is to say, in each individual medicine (knowledge of medicinal powers), and if he knows how to adapt, according to clearly defined principles, what is curative in medicines to what he has discovered to be undoubtedly morbid in the patient, so that the recovery must ensue—to adapt it, as well in respect to the suitability of the medicine most appropriate according to its mode of action to the case before him (choice of the remedy, the medicine indicated), as also in respect to the exact mode of preparation and quantity of a required (proper dose), and the proper period for repeating the dose;—if, finally, he knows the obstacles to recovery in each case and is aware how to remove them, so that the restoration may be permanent: then he understands how to treat judiciously and rationally, and he is a true practitioner of the healing art.
সূত্র-০৩, চিকিৎসক যদি স্পষ্টভাবে বুঝে রোগে কী আরোগ্য করতে হবে, অর্থাৎ, প্রত্যেক স্বতন্ত্র রোগে কী আরোগ্য করতে হবে (রোগ সম্পর্কে জ্ঞান, লক্ষণ), যদি সে স্পষ্টভাবে বুঝে ঔষধে কী আরোগ্য হয়, অর্থাৎ, প্রত্যেক স্বতন্ত্র ঔষধে কী আরোগ্য হয় (ঔষধের আরোগ্যক্ষমতা সম্পর্কে জ্ঞান), এবং যদি সে জানে, ঔষধে যা আরোগ্য হয় তা কিভাবে রোগীর মধ্যে সে সন্দেহাতীতভাবে যে রোগচিত্র আবিষ্কার করেছে তার সাথে স্পষ্টভাবে বর্ণিত নীতি অনুসারে সমন্বয় করতে হবে, যাতে আরোগ্য নিশ্চিতভাবে আসন্ন হয়—তবে সমন্বয় এমনভাবে করতে হবে যেন ঔষধটির ক্রিয়াধারা অনুসারে উপযোগিতার দিক দিয়ে উপস্থিত রোগীর ক্ষেত্রে তা সর্বাধিক উপযুক্ত হয় (ঔষধ নির্বাচন, ঠিক নির্দিষ্ট ঔষধটি), এ-ছাড়াও ঔষধের সঠিক প্রস্তুতপ্রণালী ও রোগীর জন্য আবশ্যকীয় পরিমাণ (যথার্থ মাত্রা) সম্পর্কে তার যদি জ্ঞান থাকে এবং যদি মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের যথার্থ সময় সে বুঝে;—পরিশেষে প্রত্যেকটি রোগীর ক্ষেত্রে আরোগ্যের বাধাগুলো যদি সে জানে এবং কিভাবে তা অপসারণ করে আরোগ্য স্থায়ী করা যায় সেই বিষয়ে যদি সে সচেতন হয়, তাহলে সে-ই বুঝে কিভাবে ন্যায় ও যুক্তিসঙ্গতভাবে চিকিৎসা করতে হয় এবং সেই এ-আরোগ্যকলার সত্যনিষ্ঠ ব্যবহারবিদ।
ব্যাখ্যা:- এ-সূত্রটি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের জ্ঞাতব্য বিষয় সম্পর্কে একটি সূচীপত্র। এ-বিষয়গুলো সম্পর্কে পরবর্তী সূত্রসমূহে পরিপূর্ণভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পরবর্তী অধ্যায়ে প্রবেশের পথ সহজ করার জন্য আমি এখানে ৩ নম্বর সূত্রের বিষয়ভিত্তিক সংক্ষিপ্ত ধারণা ব্যক্ত করছি।
বিষয়
ক) রোগে কী আরোগ্য করতে হবে তা বুঝার জন্য রোগীর লক্ষণচিত্রই যথেষ্ট। রোগ মানে জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলা। জীবনীশক্তি অদৃশ্য এবং এর গোপন রহস্য অজ্ঞাত। আমরা শুধু এর ক্রিয়াকলাপ লক্ষ্য করি। আমাদের দেহটা এর বাহন। কাজেই জীবনীশক্তি সব ধরনের বিশৃঙ্খলা এ-দেহযন্ত্রের অনুভূতি ও কার্যকলাপের মাধ্যমে প্রকাশ করে। হ্যানিম্যান তার অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে আবিষ্কার করেছেন যে, দেহযন্ত্রের সকল প্রকার অনুভূতি ও কার্যকলাপের অস্বাভাবিক অবস্থা জীবনীশক্তির বিশৃঙ্খলার মূর্ত প্রতিচ্ছবি। এর মধ্যেই রোগে কী আরোগ্য করতে হবে তা খুঁজে পাওয়া যাবে। অন্য কোনোভাবে এত নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে না।
খ) ঔষধ কী আরোগ্য করে-এর উত্তরে প্রথমেই বলতে হয় যে, সুস্থদেহে ঔষধ কী কী লক্ষণ সৃষ্টি করে। সুস্থ দেহে ঔষধ পরীক্ষার লক্ষ্যে শক্তিকৃত ঔষধ সেবনে যে যে লক্ষণ সৃষ্টি হয়, সে ঔষধ অসুস্থ শরীরের সেই সেই লক্ষণ আরোগ্য করে। সেইহেতু রোগ ও ঔষধের ক্ষেত্রে Individualization বা স্বতন্ত্রকরণ অতি আবশ্যক।
গ) রোগচিত্র ও ঔষধচিত্রের মধ্যে সাদৃশ্য নিরূপণ করা একটি শৈল্পিক কাজ। শিল্পীর আঁকা ছবি যদি হুবহু প্রতিচ্ছবি হয় তাহলে তাকে আমরা ঐ বস্তুর ছবি বলি। অন্যথায় তা একটি অঙ্কন মাত্র। এ-সূত্রে হ্যানিম্যান হোমিওপ্যাথিকে একটি আরোগ্যকলা হিসাবে উল্লেখ করেছেন। প্রত্যেক হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকের ঔষধের চিত্রটি হৃদয়ে এঁকে রাখতে হবে এবং তিনি কোনো রোগীর রোগচিত্র অঙ্কন করার পর তার হৃদয় থেকে অনুরূপ চিত্রের ঔষধটি খুঁজে নিবেন।
ঘ) ঔষধ প্রস্তুতপ্রণালী সম্পর্কে হ্যানিম্যান যেরূপ নির্দেশ দিয়েছেন তা মেনে কাজ করতে হবে। তা হলে সঠিক ঔষধ প্রস্তুত হবে।
ঙ) Dose বা মাত্রা কথাটি নিয়ে হোমিওপ্যাথিতে অনেক বিতর্ক আছে। আমার মনে হয় ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি না দেয়ার ফলে এ-বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সকলেই জানেন, ডোজ মানে একবারে সেবনের জন্য ঔষধের পরিমাণ। এ-সূত্রে বলা হয়েছে, "quantity of a required” (Proper dose); এখানে পরিমাণ শব্দটি বস্তুবাচক। প্রাক-হ্যানিম্যান যুগে, এমনকি হ্যানিম্যানের সময় চিকিৎসা ক্ষেত্রে বস্তুগত ধারণা প্রবল ছিল। হ্যানিম্যান নিজেও প্রথম অবস্থায় grain dose থেকে ধাপে ধাপে Devided ডোজ করে প্রতি মাত্রায় ঔষধের পরিমাণ কমাতে থাকেন। তিনি পরে হোমিওপ্যাথিক শক্তিবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে ষষ্ঠ শক্তিতে ঔষধ প্রস্তুত করেন। পৃথক পৃথক রোগীতে Sepia, Lycopodium এবং Silicea ৬ শক্তিতে ৪ থেকে ৬ টা করে বড়ি প্রতি ডোজে ব্যবহার করে তিনি ঔষধজনিত বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন। এবং ষষ্ঠ শক্তির এরূপ ডোজকে তিনি বৃহৎ মাত্রা বলে ত্যাগ করেন (চিররোগগ্রন্থ পৃষ্ঠা নম্বর-১২০, পাদটীকা দ্রষ্টব্য)।
অর্গাননের ষষ্ঠ সংস্করণের ভূমিকায় তিনি ডোজ সম্পর্কে বলেন যে, “and this it administers to the patient in simple form, but in rare and minute doses so small that, without occasioning pain or weakening, they just suffice to remove the natural malady whence this result; ” page-21, Organon, Boericke. অর্থাৎ, “হোমিওপ্যাথি প্রত্যেক রোগীতে সরল আকারে ঔষধ প্রদান করে, কিন্তু ঘন ঘন নয় এবং এত ক্ষুদ্র মাত্রায় যেন তা রোগীকে কষ্ট না দিয়ে অথবা দুর্বল না করে প্রাকৃতিক ব্যাধি অপসারণ করার জন্য যথেষ্ট হয়।” ডোজ সম্পর্কে হ্যানিম্যানের মত সর্বজনীন এবং উন্মুক্ত। দেশ-কাল-পাত্রভেদে রোগীকে কষ্ট না দিয়ে রোগ আরোগ্য করার জন্য যতটুকু ঔষধ আবশ্যক তা-ই যথার্থ ক্ষুদ্র মাত্রা।
চ) ঔষধের ডোজ পুনঃপ্রয়োগ করার ক্ষেত্রে যথার্থ সময় সম্পর্কে চিকিৎসকের জ্ঞান থাকতে হবে। বিষয়টি জটিল ও এর জন্য তীক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ জ্ঞান আবশ্যক। প্রথম মাত্রা ঔষধ সেবনের কত ঘণ্টা বা কত দিন পর দ্বিতীয় মাত্রা প্রয়োগ করতে হবে অথবা পর পর মাত্রাগুলো কখন কিভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা অগ্রিম নির্ণয় করা সম্ভব নয়। কারণ বিষয়টি আপেক্ষিক। রোগীর অবস্থাভেদে মাত্রা পুনঃপ্রয়োগের বিষয়টি নির্ণয় করতে হয়।
ছ) আরোগ্যের পথে নানা রকম বাধা থাকতে পারে। যেমন- রোগীর বাসস্থান, জীবনযাত্রার ধরণ, কার্যকলাপ, আহার, কু-অভ্যাস, উগ্র প্রসাধনী, অন্যকোনো ঔষধ, ঔষধযুক্ত দাঁতের মাজন ইত্যাদি। এ-সব বাধা অপসারণের ব্যাপারে চিকিৎসক সচেতন থাকবেন এবং বাধা অপসারণের ব্যবস্থা করবেন।
$&&&&&&&$&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&&
মানবজীবন সবচেয়ে অমূল্য সম্পদ।
সেই জীবনের ভালো মন্দের দায়িত্ব চিকিৎসকে গ্রহন করিতে হয়।
এই জন্যই এই গুরু দায়িত্ব গ্রহন করিবার আগে চিকিৎসকের যথেষ্ট প্রস্তুুতি থাকা প্রয়োজন।
চিকিৎসার গুরুদায়িত্ব গ্রহন করিবার আগে আদর্শ চিকিৎসকের কি কি বিষয়ে জ্ঞান থাকিতে হইবে,তা মহাত্মা হ্যানিম্যান বিশেষভাবে আলোচনা করিয়াছেন।
তাই একজন আদর্শ চিকিৎসকের এই গুনাবলী থাকা প্রয়োজন।
১/ রোগ সম্বন্ধে জ্ঞান।
২/ ঔষধের আরোগ্যকারী শক্তি সমন্ধে জ্ঞান।
৩/ ঔষধ প্রয়োগ সম্পর্কিত জ্ঞান।
৪/ আরোগ্যের বিঘ্নসমূহ দূর করার জ্ঞান।
এই সব বিষয়ে খুবই মূল্যবান আলোচনা করেছেন প্রিয় ডাঃরাসেল ভাই।
@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@@
বিচ্ছিন্ন লিখা :
চিকিৎসা মানুষের কল্যাণের জন্য। কোনো চিকিৎসায় যদি মানুষের অকল্যাণ হয় তাহলে তা পরিত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। সমূলে রোগ আরোগ্য করা চিকিৎসকের নৈতিক দায়ীত্ব। তা যদি তিনি না পারেন সে ক্ষেত্রে তিনি এমনভাবে কাজ করবেন যাতে রোগীর অন্তত কোনো ক্ষতি না হয়। আমার বিশ্বাস মহাত্মা হ্যানিম্যানের ‘অর্গানন অভ্ মেডিসিন’ এবং চিররোগগ্রন্থটি যিনি অধ্যয়ন এবং অনুসরণ করবেন তিনি অবশ্যই পীড়িত মানুষদের উপকার করতে সক্ষম হবেন।
@@@9@@@@@@@@@@@@@@@@@$$$$$
৩নং সুত্র ঃ –
(ক ) রোগে কি আরোগ্য করিতে হইবে যদি চিকিৎসক তাহা পরিষ্কাররূপে বুঝিতে পারেন, অর্থাৎ প্রত্যেক রোগ যে সকল লক্ষণ দ্বারা সুচিত হয়, সেই লক্ষণগুলি সম্বন্ধে যদি তাঁহার সম্যক, জ্ঞান থাকে ( রোগ সম্বন্ধে জ্ঞান, অভিজ্ঞান ), ( খ ) প্রত্যেক ঔষধের কি কি লক্ষণ দ্বারা তাহার রোগ দূর করিবার শক্তি প্রকাশিত হয়, যদি তিনি তাহা পরিষ্কারভাবে বুঝিতে পারেন এবং ( গ ) যদি যাহা তিনি নিঃসন্দেহে রোগীর অসুস্থতাব্যঞ্জক বলিয়া জানিয়াছেন, তাহার সহিত প্রকৃষ্টরূপে নির্দিষ্ট নিয়মানুসারে ঔষধের আরোগ্যকারী শক্তিকে এরূপভাবে যোজনা করিতে জানেন যে তদ্বারা নিশ্চয়ই আরোগ্যের সুত্রপাত হইবে – অর্থাৎ 1 . ঔষধকে ইহার ক্রিয়া প্রণালী অনুযায়ী উপস্থিত রোগের সর্বাপেক্ষা উপযোগী করিয়া প্রয়োগ করিতে ( ঔষধ নির্বাচন, সুচিত ঔষধ ), 2 . উপযুক্ত প্রস্তুতপ্রণালী, 3 . ও তাহার প্রয়োজনীয় পরিমাণ ( উপযুক্ত মাত্রা ) এবং 4 . প্রথম প্রয়োগ ও পুনঃপ্রয়োগের উপযুক্ত সময় – এ কয়টি বিষয় যদি তাহার বিধিমত প্রকারে জানা থাকে এবং পরিশেষে, ( ঘ ) আরোগ্যবিষয়ে যাহা যাহা বাধাস্বরূপ তাহাদের এরূপভাবে দূর করিতে পারেন যে, পুনঃ প্রবর্তিত স্বাস্থ্য চিরস্থায়ী হয় তবেই তিনি কিরূপে ন্যায়সঙ্গত ও যুক্তিযুক্তভাবে চিকিৎসা করিতে হয় তাহা জানেন এবং তিনিই প্রকৃত আরোগ্য-কৌশলজ্ঞ চিকিৎসক ।
§ 3
If the physician clearly perceives what is to be cured in diseases, that is to say, in every individual case of disease (knowledge of disease, indication), if he clearly perceives what is curative in medicines, that is to say, in each individual medicine (knowledge of medical powers), and if he knows how to adapt, according to clearly defined principles, what is curative in medicines to what he has discovered to be undoubtedly morbid in the patient, so that the recovery must ensue - to adapt it, as well in respect to the suitability of the medicine most appropriate according to its mode of action to the case before him (choice of the remedy, the medicine indicated), as also in respect to the exact mode of preparation and quantity of it required (proper dose), and the proper period for repeating the dose; - if, finally, he knows the obstacles to recovery in each case and is aware how to remove them, so that the restoration may be permanent, then he understands how to treat judiciously and rationally, and he is a true practitioner of the healing art.
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন