http://www.dailysangram.com
প্র: রোজায় হাঁপানি রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জানতে চাই।
-ডা. আহমদ উল্লাহ, গাজীপুর।
উ: প্রথম কথা রোজায় হাঁপানি রোগীর কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অনেকে রোজা না রাখার কারণ হিসেবে হাঁপানির কথা বললেও আসলে হাঁপানি রোগীর রোজা রাখতে কোন বাধা নেই। অনেক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রোজা কোনভাবেই হাঁপানি রোগ বাড়িয়ে দেয় না। বরং রোজা হাঁপানি রোগীর জন্য স্বস্তিদায়ক। যদি কোন রোগীর সমস্যা হয় তবে হোমিওপ্যাথি ঔষধ ঘ্রাণে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অথবা যারা ইনহেলার ব্যবহার করেন, তারা তা করতে পারবেন। ঘ্রাণে ঔষধ বা ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ এ ব্যবস্থায় ঔষধ পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছে না।
প্র: আমি একজন পেপটিক আলসারের রোগী। রোজা আমার কোন সমস্যা করবে কি?
-শহিদুল হক, ঢাকা।
উ: এ কথা এখন সর্বজনস্বীকৃত যে, পেপটিক আলসারের রোগীরা রোজা রাখলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নিয়মিত (রাতে) ঔষধ গ্রহণের পাশাপাশি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিকভাবে রোজার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা তৈরী করে রোজা রাখলে কোন সমস্যা হবে না।
প্র: গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা জানতে চাই।
-ডা. মেহেরুন্নেছা, ঢাকা।
উ: গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা একটি গুরুতর সমস্যা। এজন্য সবার আগে জানতে হবে যে, মাথায় যন্ত্রণা কেন হবে? বেশ কিছু হরমোনাল পরিবর্তনের কারণেও গর্ভাবস্থায় মাথার যন্ত্রণা হয়। শারীরিক বা মানসিক চাপও মাথা যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। তাই এ সময় সব ধরনের মানসিক উত্তেজনা ও চাপ এড়িয়ে চলতে হবে। গর্ভাবস্থায় বিশ্রামের অভাবেও মাথায় যন্ত্রণা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ অথবা নিম্ন রক্তচাপ, উভয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথার জন্য বেশ কিছু ঔষধ রয়েছে। যেমন-সিমিসিফিউগা, বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, কেমোমিলা, জেলসেমিয়াম, ইননেশিয়া, গ্লোনইন, নাক্সভম, পালস, সিপিয়া, স্পাইজেলিয়া, ইত্যাদি। রোগীর বিস্তারিত চিত্র বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে এবং কি কারণে মাথা ব্যথা হচ্ছে তা জেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। গুরুতর অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগীকে পাঠাতে হবে।
প্র: ঔষধের প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাই।
-ডা. আমিনুর রহমান, ঢাকা।
উ: ঔষধের প্রতিক্রিয়া বলতে যদি হোমিওপ্যাথি ঔষধের কথা বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, ভুল নির্বাচিত ঔষধে নতুন রোগ লক্ষণ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ ঔষধ প্রয়োগের পর যদি রোগীর মধ্যে নতুন কষ্টদায়ক লক্ষণ দেখা দেয়, যা তার পূর্বরোগের সাথে সম্পৃক্ত নয়, তাহলে বুঝতে হবে ঔষধটি সঠিকভাবে নির্বাচিত হয়নি। (অর্গা, ৬ষ্ঠ, ২৪৯)। এ অবস্থায় চিকিৎসক ঔষধ বন্ধ রেখে অপেক্ষা করবেন। আর যদি বৃদ্ধিটা গুরুতর হয় তাহলে ক্রিয়ানাশক প্রয়োগ করে বৃদ্ধি থামাতে হবে। অবস্থার পরিবর্তন হলে নতুন নির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
এখানে আরেকটি জিনিস মনে রাখা দরকার, তা হল অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের প্রতিক্রিয়ার লক্ষণগুলো। সাধারণভাবে সারা গায়ে চুলকানি হওয়া, সারা গায়ে দ্রুত ফোস্কা হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাবার উপক্রম হওয়া। এসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যথিক ঔষধ রাসটক্স প্রয়োগ করুন।
প্র: নতুন পদ্ধতির ঔষধ ক্রনিক রোগে প্রতিদিন প্রয়োগ করা যায় কি?
-ডা. এস. আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম।
উ: ক্রনিক রোগে নতুন পদ্ধতির ঔষধ প্রতিদিন বা একদিন পর পর সেবন করা যায়। প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার সেবন করা যায় (অর্গা, ৬ষ্ঠ, ২৪৮, ২৮২)।
প্র: আপনি ডিএইচএমএস চিকিৎসকদের ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা করতে নিষেধ করেন কেন?
-ডা: শিকদার মাহবুব, ঢাকা।
উ: ডিএইচএমএস চিকিৎসকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষায় ধারাবাহিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়া বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা না দেয়াই ভাল। একজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসা করতে কোন বাধা নেই। কিন্তু পেশাগত মান ও মর্যাদা রক্ষায় যার যার যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকা ভাল। আমরা ক্যান্সার চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করার বিরোধী। চিকিৎসার মত মহান পেশায় সততার সাথে চিকিৎসা পরিচালনা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্র: আমি একজন রোগী। সম্প্রতি একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার আমার ‘‘সিরাম ক্রিয়েটিনিন’’ কমানোর জন্য “হেলিবোরাস’’ নামক একটি ঔষধের মাদার টিংচার দিয়েছেন। এটি খেয়ে আমার ক্রিয়েটিনিন আরো বেড়ে গেছে। এখন আমি কি করব?
-এস. এ. বাদল, ঢাকা।
উ. প্রথমত আপনি ঔষধটি বন্ধ করে দিন। আপনার পাশে কোন বিএইচএমএস ডাক্তার থাকলে তার সাথে পরামর্শ করুন। এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।
প্র: আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। আমার এলাকার বেশ কয়েকজন ক্যান্সার রোগী আপনার চিকিৎসায় ভাল আছে। আমি টাকার অভাবে আপনার কাছে আসতে পারছি না। আপনি আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন?
-মিরাস মিয়া, সিরাজগঞ্জ।
উ: আপনি আপনার এলাকার চেয়ারম্যান-এর কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসুন। আমরা আপনাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করব।
প্র: আপনি ক্যান্সার রোগীদের এক সময় দুধ খেতে নিষেধ করতেন। ইদানীং আবার দুধ খেতে বলছেন। কেন? -ডা: মোহাম্মদ উল্লাহ ঢাকা।
উ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্যান্সার রোগীদের দুধ খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা সংক্রান্ত অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই আমি ক্যান্সার রোগীদের দুধ খেতে নিষেধ করতাম। কিন্তু যখন কুরআনে দুধ পানের উপকারিতার কথা জানতে পারলাম তখন থেকে ক্যান্সার রোগীদের দুধ পানে উৎসাহিত করি (দেখুন-সূরা নাহল-৬৬ আয়াত, আল মু’মিনুন-২৯ আয়াত)।
প্র: বারে বারে গর্ভপাত। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আছে কি?
-ডা: আমেনা খাতুন, ঢাকা।
উ: যখন তিন বা ততোধিক পর পর গর্ভনষ্ট হয়, তখন তাকে বারে বারে গর্ভপাত বা রিকারেন্ট অ্যাবরশন বলা হয়। এর জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী। যেমন-প্রথম তিন মাসে যে গর্ভপাত হয়, তা ভ্রুণের ত্রুটিপূর্ণ গঠনের জন্য, কিংবা হরমোনের অভাবে অথবা অন্য কোন অজানা কারণে হতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থার চার মাস থেকে সাত মাসের মধ্যে যে সব গর্ভপাত ঘটে তার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে,
(ক) সারভাইকাল ইনকমপিটেন্স (২০ শতাংশ),
(খ) জরায়ুর জন্মগত গঠনগত ত্রুটি, (গ) জরায়ুর টিউমার, (ঘ) অতিরিক্ত ডায়াবেটিস, (ঙ) দীর্ঘস্থায়ী কিডনীর প্রদাহ ও উচ্চ রক্তচাপ, (চ) সিফিলিস, টক্সোপ্লাজম ইত্যাদি সংক্রমণ।
তাই যথাযথ কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অনেক ভাল ভাল হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে, যা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, জন্মগত ত্রুটির ক্ষেত্রে চিকিৎসা অনিশ্চিত।
প্র. সাইনুসাইটিসের প্রতিকার এবং কার্যকর হোমিওপ্যাথি ঔষধ জানতে চাই।
-ডা. শাহাদাৎ মন্ডল, কুমিল্লা।
উ. সাইনাসের ইনফেকশনের কারণে সাইনুসাইটিস হয়। লক্ষণে থাকবে মাথা ব্যথা, মৃদু থেকে তীব্র, সাধারণভাবে নাকের দু’পাশে, চোখের ভ্রুর উপরে এবং চোখের ভিতরে। এ অবস্থায় জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে হালকা বা ঘন পুঁজের মত পড়া এবং মাথা নাড়লে বা ঝাঁকালে মাথা ব্যথা হতে পারে। সাইনুসাইটিস ভাল হয়ে গেলে আর মাথা ব্যথা থাকে না। সাইনুসাইটিসের জন্য ভাল হোমিওপ্যাথি ঔষধ রয়েছে। যেমন-আর্সেনিক অ্যাল্ব, ব্রায়োনিয়া, কেলক্যারিয়া কার্ব, কেলক্যারিয়া সালফ, ডালকামারা, হিপার সালফ, কেলিবাই, কেলি আয়োড, মার্কসল, নাক্সভম, থুজা ইত্যাদি।
প্র. সব সময় হাঁচি থাকে। ভাল কয়েকটি ঔষধ চাই।
-ডা. চন্দন কুমার, চট্টগ্রাম।
উ. হাঁচির সাথে অ্যালার্জির সম্পর্ক আছে। আমার ব্যবহৃত কয়েকটি ঔষধ হচ্ছে, কেলিকার্ব, ন্যাট্রাম সালফ এবং রাস টক্স।
প্র. রোগীর MT টেস্ট পজিটিভ। যক্ষ্মা বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। হোমিওপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা আছে কি?
-ডা. আলতাফ ঢালী, ঢাকা।
উ. যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে MT পরীক্ষা করা হয়। MT (মানটো টেস্ট, Mantoux Test) আসলে টি.বি জীবাণুর প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যালার্জি টেস্ট। মেরে ফেলা টি.বি. জীবাণুর অত্যন্ত অল্প ডোজ বিশোধিত প্রোটিন চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রোগীর টি.বি., অ্যালার্জি না থাকলে কোন শক্ত চাকা হবে না। কিন্তু ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৯ থেকে ১০ মি.মি.-এর উপরে বড় কোনো গোল শক্ত চাকা হলে বলা যায় এই রোগীর টি.বি. প্রোটিনে অ্যালার্জি আছে। তবে এ পরীক্ষার দ্বারা রোগীর শরীরের ভিতর যক্ষ্মা রোগের উপস্থিতির একটি পরোক্ষ প্রমাণ। কোন নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তাই এম.টি. পজিটিভ হলে টি.বি. রোগের চিকিৎসা করা ঠিক নয়। আরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিত হয়ে টি.বি. রোগের চিকিৎসা করতে হবে। হোমিওপ্যাথিতেও এ রোগের ভাল চিকিৎসা সম্ভব।
প্র. আমি একজন ব্রংকাইটিসের রোগী। এ রোগ কি কারণে হয়? হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা হয় কি?
-আবদুস সবুর, বরিশাল।
উ. ব্রংকাইটিসের প্রধান কারণ ধূমপান। তাছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়, শীতকালে এবং শীতল আবহাওয়ায় ব্রংকাইটিস হয়। অত্যধিক ভিড়, ক্লান্তি এবং শীতের কাঁপুনিও ব্রংকাইটিসের কারণ। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাথার ঠান্ডা, অনবরত নাক ঝরা, কাঁপুনি, জ্বর, মাংসপেশীতে বেদনা এবং পিঠের ব্যথা। এরপরই আরম্ভ হয় অনবরত কাশি, প্রথমে শুকনো, তারপর শ্লেষ্মাযুক্ত। ধোঁয়ায় বাড়ে, রাতেও বাড়ে। চিকিৎসার প্রাথমিক শর্ত, আপনাকে ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে। তারপর একজন উচ্চশিক্ষিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিলে আপনি ভাল ফল পাবেন। মনে রাখবেন, হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্রংকাইটিসের জন্য বেশ ভাল কাজ করে।
প্র. ফুসফুসের প্লুরিসি (Pleurisy)। আপনার ব্যবহৃত কয়েকটি ঔষধের নাম দিন।
-ডা. অনুপম বড়ুয়া, ঢাকা।
উ. অ্যাকোনাইট, ব্রায়োনিয়া, কেলি কার্ব, সেনেগা এবং সালফার ভাল ঔষধ।
প্র: আমি সদ্য ডিএইচএমএস পাস করেছি। আমার এক রোগীর দু’হাতের তালুতে লালচে ভাব। বেশকিছু ঔষধ প্রয়োগ করার পরেও কোন ফল পাচ্ছি না। পরামর্শ চাই।
-ডা: আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা
উ: রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস প্রয়োজন। তবে পুরনো লিভার রোগে দু’হাতের তালু টুকটুকে লাল হতে পারে (Paermar Flush)। তাই লিভার সম্পর্কে কিছু জরুরি রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন। যেমন- বিলিরুবিন, SGPT, SGOT, PT, Alkaline Phosphatase ইত্যাদি। এছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম, A, B, C, E, ভাইরাস পরীক্ষা, আলফা ফিটোপ্রোটিন ইত্যাদি থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দ্বারা লিভার রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। রোগীর ইতিহাস এবং ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসা দিলে রোগী উপকার পাবে।
প্র: গর্ভাবস্থায় রোগীর লিভারে সমস্যা দেখা দিলে কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে কি?
-ডা : মোহসেনা খানম, বরিশাল
উ: হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় লিভারে সমস্যা দেখা দিলে হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে। সাধারণ লিভারে সমস্যায় ‘চেলেডোনিয়াম’ নিরাপদ ঔষধ।
প্র: ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার কংগ্রেস-এর জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?
-ডা : আমজাদ হোসেন, যশোর।
উ: ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার কংগ্রেস-২০১২, তে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক বিভিন্ন জেলার চিকিৎসকরা মোবাইল নম্বর : ০১৭১২৮১৭১৪৪ তে নাম ঠিকানা পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।
প্র: আপনি টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার কথা বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই।
-ডা : মোবারক হোসেন, খুলনা।
উ: ক্যান্সার রোগীর জন্য চিকিৎসা প্রোটোকল হচ্ছে, টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার সোসাইটি টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে।
প্র: ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সফলতা জানতে চাই।
-ডা: আমিনা হক, ঢাকা
উ: ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায় ধরা পড়লে এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আওতায় থাকলে শতভাগ আরোগ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।
প্র: আমি আপনার ক্যান্সার সোসাইটির একজন রোগী। পাকস্থলীর ক্যান্সার থেকে আমি ভাল আছি। আমি আপনাদের কাছে একটি হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করছি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই।
-এস হোসেন, গাজীপুর।
উ: আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের মত উপকৃত রোগীরা সোসাইটির পাশে থাকলে আমরা একটি আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ইনশাল্লাহ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য সোসাইটি তার মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের সবাইর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রশ্ন পাঠাতে : ০১৭৪৭-১২৯৫৪৭, ০১৭১২-৮১৭১৪৪।
প্র: রোজায় হাঁপানি রোগীর চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জানতে চাই।
-ডা. আহমদ উল্লাহ, গাজীপুর।
উ: প্রথম কথা রোজায় হাঁপানি রোগীর কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। অনেকে রোজা না রাখার কারণ হিসেবে হাঁপানির কথা বললেও আসলে হাঁপানি রোগীর রোজা রাখতে কোন বাধা নেই। অনেক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, রোজা কোনভাবেই হাঁপানি রোগ বাড়িয়ে দেয় না। বরং রোজা হাঁপানি রোগীর জন্য স্বস্তিদায়ক। যদি কোন রোগীর সমস্যা হয় তবে হোমিওপ্যাথি ঔষধ ঘ্রাণে দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। অথবা যারা ইনহেলার ব্যবহার করেন, তারা তা করতে পারবেন। ঘ্রাণে ঔষধ বা ইনহেলার ব্যবহারে রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ এ ব্যবস্থায় ঔষধ পাকস্থলি পর্যন্ত পৌঁছে না।
প্র: আমি একজন পেপটিক আলসারের রোগী। রোজা আমার কোন সমস্যা করবে কি?
-শহিদুল হক, ঢাকা।
উ: এ কথা এখন সর্বজনস্বীকৃত যে, পেপটিক আলসারের রোগীরা রোজা রাখলে কোন সমস্যা হওয়ার কথা নয়। নিয়মিত (রাতে) ঔষধ গ্রহণের পাশাপাশি ভাজাপোড়া জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। মানসিকভাবে রোজার ব্যাপারে ইতিবাচক চিন্তা তৈরী করে রোজা রাখলে কোন সমস্যা হবে না।
প্র: গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা জানতে চাই।
-ডা. মেহেরুন্নেছা, ঢাকা।
উ: গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথা একটি গুরুতর সমস্যা। এজন্য সবার আগে জানতে হবে যে, মাথায় যন্ত্রণা কেন হবে? বেশ কিছু হরমোনাল পরিবর্তনের কারণেও গর্ভাবস্থায় মাথার যন্ত্রণা হয়। শারীরিক বা মানসিক চাপও মাথা যন্ত্রণার কারণ হতে পারে। তাই এ সময় সব ধরনের মানসিক উত্তেজনা ও চাপ এড়িয়ে চলতে হবে। গর্ভাবস্থায় বিশ্রামের অভাবেও মাথায় যন্ত্রণা হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নিশ্চিত করতে হবে। উচ্চ রক্তচাপ অথবা নিম্ন রক্তচাপ, উভয়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভাবস্থায় মাথা ব্যথার জন্য বেশ কিছু ঔষধ রয়েছে। যেমন-সিমিসিফিউগা, বেলেডোনা, ব্রায়োনিয়া, কেমোমিলা, জেলসেমিয়াম, ইননেশিয়া, গ্লোনইন, নাক্সভম, পালস, সিপিয়া, স্পাইজেলিয়া, ইত্যাদি। রোগীর বিস্তারিত চিত্র বিবেচনা করে ঔষধ নির্বাচন করতে হবে এবং কি কারণে মাথা ব্যথা হচ্ছে তা জেনে নিয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। গুরুতর অবস্থা বিবেচনা করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগীকে পাঠাতে হবে।
প্র: ঔষধের প্রতিক্রিয়ার উপসর্গ সম্পর্কে জানতে চাই।
-ডা. আমিনুর রহমান, ঢাকা।
উ: ঔষধের প্রতিক্রিয়া বলতে যদি হোমিওপ্যাথি ঔষধের কথা বুঝিয়ে থাকেন, তাহলে জেনে রাখুন, ভুল নির্বাচিত ঔষধে নতুন রোগ লক্ষণ সৃষ্টি করবে। অর্থাৎ ঔষধ প্রয়োগের পর যদি রোগীর মধ্যে নতুন কষ্টদায়ক লক্ষণ দেখা দেয়, যা তার পূর্বরোগের সাথে সম্পৃক্ত নয়, তাহলে বুঝতে হবে ঔষধটি সঠিকভাবে নির্বাচিত হয়নি। (অর্গা, ৬ষ্ঠ, ২৪৯)। এ অবস্থায় চিকিৎসক ঔষধ বন্ধ রেখে অপেক্ষা করবেন। আর যদি বৃদ্ধিটা গুরুতর হয় তাহলে ক্রিয়ানাশক প্রয়োগ করে বৃদ্ধি থামাতে হবে। অবস্থার পরিবর্তন হলে নতুন নির্বাচিত ঔষধ প্রয়োগ করুন।
এখানে আরেকটি জিনিস মনে রাখা দরকার, তা হল অ্যালোপ্যাথিক ঔষধের প্রতিক্রিয়ার লক্ষণগুলো। সাধারণভাবে সারা গায়ে চুলকানি হওয়া, সারা গায়ে দ্রুত ফোস্কা হওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া এবং হাত পা ঠান্ডা হয়ে যাবার উপক্রম হওয়া। এসব ক্ষেত্রে হোমিওপ্যথিক ঔষধ রাসটক্স প্রয়োগ করুন।
প্র: নতুন পদ্ধতির ঔষধ ক্রনিক রোগে প্রতিদিন প্রয়োগ করা যায় কি?
-ডা. এস. আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম।
উ: ক্রনিক রোগে নতুন পদ্ধতির ঔষধ প্রতিদিন বা একদিন পর পর সেবন করা যায়। প্রয়োজনে দিনে কয়েকবার সেবন করা যায় (অর্গা, ৬ষ্ঠ, ২৪৮, ২৮২)।
প্র: আপনি ডিএইচএমএস চিকিৎসকদের ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা করতে নিষেধ করেন কেন?
-ডা: শিকদার মাহবুব, ঢাকা।
উ: ডিএইচএমএস চিকিৎসকদের প্রতি আমার শ্রদ্ধার কোন ঘাটতি নেই। কিন্তু চিকিৎসা বিজ্ঞান শিক্ষায় ধারাবাহিক উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়া বিশেষায়িত রোগের চিকিৎসা না দেয়াই ভাল। একজন ডিপ্লোমা চিকিৎসক যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসা করতে কোন বাধা নেই। কিন্তু পেশাগত মান ও মর্যাদা রক্ষায় যার যার যোগ্যতা সম্পর্কে সচেতন থাকা ভাল। আমরা ক্যান্সার চিকিৎসার নামে বাণিজ্য করার বিরোধী। চিকিৎসার মত মহান পেশায় সততার সাথে চিকিৎসা পরিচালনা সবার নৈতিক দায়িত্ব।
প্র: আমি একজন রোগী। সম্প্রতি একজন হোমিওপ্যাথি ডাক্তার আমার ‘‘সিরাম ক্রিয়েটিনিন’’ কমানোর জন্য “হেলিবোরাস’’ নামক একটি ঔষধের মাদার টিংচার দিয়েছেন। এটি খেয়ে আমার ক্রিয়েটিনিন আরো বেড়ে গেছে। এখন আমি কি করব?
-এস. এ. বাদল, ঢাকা।
উ. প্রথমত আপনি ঔষধটি বন্ধ করে দিন। আপনার পাশে কোন বিএইচএমএস ডাক্তার থাকলে তার সাথে পরামর্শ করুন। এসব ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।
প্র: আমার বাড়ি সিরাজগঞ্জ। আমার এলাকার বেশ কয়েকজন ক্যান্সার রোগী আপনার চিকিৎসায় ভাল আছে। আমি টাকার অভাবে আপনার কাছে আসতে পারছি না। আপনি আমাকে কিভাবে সাহায্য করবেন?
-মিরাস মিয়া, সিরাজগঞ্জ।
উ: আপনি আপনার এলাকার চেয়ারম্যান-এর কাছ থেকে একটি প্রত্যয়নপত্র নিয়ে আমাদের চিকিৎসা কেন্দ্রে আসুন। আমরা আপনাকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা প্রদান করব।
প্র: আপনি ক্যান্সার রোগীদের এক সময় দুধ খেতে নিষেধ করতেন। ইদানীং আবার দুধ খেতে বলছেন। কেন? -ডা: মোহাম্মদ উল্লাহ ঢাকা।
উ: চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্যান্সার রোগীদের দুধ খাওয়াকে নিরুৎসাহিত করা সংক্রান্ত অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। তাই আমি ক্যান্সার রোগীদের দুধ খেতে নিষেধ করতাম। কিন্তু যখন কুরআনে দুধ পানের উপকারিতার কথা জানতে পারলাম তখন থেকে ক্যান্সার রোগীদের দুধ পানে উৎসাহিত করি (দেখুন-সূরা নাহল-৬৬ আয়াত, আল মু’মিনুন-২৯ আয়াত)।
প্র: বারে বারে গর্ভপাত। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা আছে কি?
-ডা: আমেনা খাতুন, ঢাকা।
উ: যখন তিন বা ততোধিক পর পর গর্ভনষ্ট হয়, তখন তাকে বারে বারে গর্ভপাত বা রিকারেন্ট অ্যাবরশন বলা হয়। এর জন্য বিভিন্ন কারণ দায়ী। যেমন-প্রথম তিন মাসে যে গর্ভপাত হয়, তা ভ্রুণের ত্রুটিপূর্ণ গঠনের জন্য, কিংবা হরমোনের অভাবে অথবা অন্য কোন অজানা কারণে হতে পারে। এছাড়া গর্ভাবস্থার চার মাস থেকে সাত মাসের মধ্যে যে সব গর্ভপাত ঘটে তার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে,
(ক) সারভাইকাল ইনকমপিটেন্স (২০ শতাংশ),
(খ) জরায়ুর জন্মগত গঠনগত ত্রুটি, (গ) জরায়ুর টিউমার, (ঘ) অতিরিক্ত ডায়াবেটিস, (ঙ) দীর্ঘস্থায়ী কিডনীর প্রদাহ ও উচ্চ রক্তচাপ, (চ) সিফিলিস, টক্সোপ্লাজম ইত্যাদি সংক্রমণ।
তাই যথাযথ কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে অনেক ভাল ভাল হোমিওপ্যাথিক ঔষধ রয়েছে, যা যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে পারলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপকার পাওয়া যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, জন্মগত ত্রুটির ক্ষেত্রে চিকিৎসা অনিশ্চিত।
প্র. সাইনুসাইটিসের প্রতিকার এবং কার্যকর হোমিওপ্যাথি ঔষধ জানতে চাই।
-ডা. শাহাদাৎ মন্ডল, কুমিল্লা।
উ. সাইনাসের ইনফেকশনের কারণে সাইনুসাইটিস হয়। লক্ষণে থাকবে মাথা ব্যথা, মৃদু থেকে তীব্র, সাধারণভাবে নাকের দু’পাশে, চোখের ভ্রুর উপরে এবং চোখের ভিতরে। এ অবস্থায় জ্বর জ্বর ভাব, নাক দিয়ে হালকা বা ঘন পুঁজের মত পড়া এবং মাথা নাড়লে বা ঝাঁকালে মাথা ব্যথা হতে পারে। সাইনুসাইটিস ভাল হয়ে গেলে আর মাথা ব্যথা থাকে না। সাইনুসাইটিসের জন্য ভাল হোমিওপ্যাথি ঔষধ রয়েছে। যেমন-আর্সেনিক অ্যাল্ব, ব্রায়োনিয়া, কেলক্যারিয়া কার্ব, কেলক্যারিয়া সালফ, ডালকামারা, হিপার সালফ, কেলিবাই, কেলি আয়োড, মার্কসল, নাক্সভম, থুজা ইত্যাদি।
প্র. সব সময় হাঁচি থাকে। ভাল কয়েকটি ঔষধ চাই।
-ডা. চন্দন কুমার, চট্টগ্রাম।
উ. হাঁচির সাথে অ্যালার্জির সম্পর্ক আছে। আমার ব্যবহৃত কয়েকটি ঔষধ হচ্ছে, কেলিকার্ব, ন্যাট্রাম সালফ এবং রাস টক্স।
প্র. রোগীর MT টেস্ট পজিটিভ। যক্ষ্মা বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। হোমিওপ্যাথিতে এর কোন চিকিৎসা আছে কি?
-ডা. আলতাফ ঢালী, ঢাকা।
উ. যক্ষ্মা রোগ নির্ণয়ে MT পরীক্ষা করা হয়। MT (মানটো টেস্ট, Mantoux Test) আসলে টি.বি জীবাণুর প্রোটিনের বিরুদ্ধে অ্যালার্জি টেস্ট। মেরে ফেলা টি.বি. জীবাণুর অত্যন্ত অল্প ডোজ বিশোধিত প্রোটিন চামড়ার নিচে ঢুকিয়ে ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রোগীর টি.বি., অ্যালার্জি না থাকলে কোন শক্ত চাকা হবে না। কিন্তু ৭২ ঘন্টার মধ্যে ৯ থেকে ১০ মি.মি.-এর উপরে বড় কোনো গোল শক্ত চাকা হলে বলা যায় এই রোগীর টি.বি. প্রোটিনে অ্যালার্জি আছে। তবে এ পরীক্ষার দ্বারা রোগীর শরীরের ভিতর যক্ষ্মা রোগের উপস্থিতির একটি পরোক্ষ প্রমাণ। কোন নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তাই এম.টি. পজিটিভ হলে টি.বি. রোগের চিকিৎসা করা ঠিক নয়। আরও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিত হয়ে টি.বি. রোগের চিকিৎসা করতে হবে। হোমিওপ্যাথিতেও এ রোগের ভাল চিকিৎসা সম্ভব।
প্র. আমি একজন ব্রংকাইটিসের রোগী। এ রোগ কি কারণে হয়? হোমিওপ্যাথিতে এর চিকিৎসা হয় কি?
-আবদুস সবুর, বরিশাল।
উ. ব্রংকাইটিসের প্রধান কারণ ধূমপান। তাছাড়া স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়, শীতকালে এবং শীতল আবহাওয়ায় ব্রংকাইটিস হয়। অত্যধিক ভিড়, ক্লান্তি এবং শীতের কাঁপুনিও ব্রংকাইটিসের কারণ। এ রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হলো মাথার ঠান্ডা, অনবরত নাক ঝরা, কাঁপুনি, জ্বর, মাংসপেশীতে বেদনা এবং পিঠের ব্যথা। এরপরই আরম্ভ হয় অনবরত কাশি, প্রথমে শুকনো, তারপর শ্লেষ্মাযুক্ত। ধোঁয়ায় বাড়ে, রাতেও বাড়ে। চিকিৎসার প্রাথমিক শর্ত, আপনাকে ধূমপান ছেড়ে দিতে হবে। তারপর একজন উচ্চশিক্ষিত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা নিলে আপনি ভাল ফল পাবেন। মনে রাখবেন, হোমিওপ্যাথি ঔষধ ব্রংকাইটিসের জন্য বেশ ভাল কাজ করে।
প্র. ফুসফুসের প্লুরিসি (Pleurisy)। আপনার ব্যবহৃত কয়েকটি ঔষধের নাম দিন।
-ডা. অনুপম বড়ুয়া, ঢাকা।
উ. অ্যাকোনাইট, ব্রায়োনিয়া, কেলি কার্ব, সেনেগা এবং সালফার ভাল ঔষধ।
প্র: আমি সদ্য ডিএইচএমএস পাস করেছি। আমার এক রোগীর দু’হাতের তালুতে লালচে ভাব। বেশকিছু ঔষধ প্রয়োগ করার পরেও কোন ফল পাচ্ছি না। পরামর্শ চাই।
-ডা: আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা
উ: রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস প্রয়োজন। তবে পুরনো লিভার রোগে দু’হাতের তালু টুকটুকে লাল হতে পারে (Paermar Flush)। তাই লিভার সম্পর্কে কিছু জরুরি রক্ত পরীক্ষা প্রয়োজন। যেমন- বিলিরুবিন, SGPT, SGOT, PT, Alkaline Phosphatase ইত্যাদি। এছাড়া আলট্রাসনোগ্রাম, A, B, C, E, ভাইরাস পরীক্ষা, আলফা ফিটোপ্রোটিন ইত্যাদি থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা দ্বারা লিভার রোগ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হবে। রোগীর ইতিহাস এবং ল্যাব পরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে চিকিৎসা দিলে রোগী উপকার পাবে।
প্র: গর্ভাবস্থায় রোগীর লিভারে সমস্যা দেখা দিলে কোন ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে কি?
-ডা : মোহসেনা খানম, বরিশাল
উ: হ্যাঁ, গর্ভাবস্থায় লিভারে সমস্যা দেখা দিলে হোমিওপ্যাথি ঔষধ প্রয়োগ করা যাবে। সাধারণ লিভারে সমস্যায় ‘চেলেডোনিয়াম’ নিরাপদ ঔষধ।
প্র: ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার কংগ্রেস-এর জন্য বিভিন্ন জেলা থেকে কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে?
-ডা : আমজাদ হোসেন, যশোর।
উ: ন্যাশনাল হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার কংগ্রেস-২০১২, তে অংশগ্রহণ করতে ইচ্ছুক বিভিন্ন জেলার চিকিৎসকরা মোবাইল নম্বর : ০১৭১২৮১৭১৪৪ তে নাম ঠিকানা পাঠিয়ে রেজিস্ট্রেশন ফরম সংগ্রহ করতে পারেন।
প্র: আপনি টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীর চিকিৎসার কথা বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাই।
-ডা : মোবারক হোসেন, খুলনা।
উ: ক্যান্সার রোগীর জন্য চিকিৎসা প্রোটোকল হচ্ছে, টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া। বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার সোসাইটি টিউমার বোর্ড-এর মাধ্যমে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকে।
প্র: ব্রেস্ট ক্যান্সার চিকিৎসায় হোমিওপ্যাথির সফলতা জানতে চাই।
-ডা: আমিনা হক, ঢাকা
উ: ব্রেস্ট ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায় ধরা পড়লে এবং হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আওতায় থাকলে শতভাগ আরোগ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য এ বিষয়ে প্রশিক্ষিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা গ্রহণ বাঞ্ছনীয়।
প্র: আমি আপনার ক্যান্সার সোসাইটির একজন রোগী। পাকস্থলীর ক্যান্সার থেকে আমি ভাল আছি। আমি আপনাদের কাছে একটি হোমিওপ্যাথিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করছি। এ ব্যাপারে আপনার মতামত জানতে চাই।
-এস হোসেন, গাজীপুর।
উ: আপনার প্রস্তাবের জন্য ধন্যবাদ। আপনাদের মত উপকৃত রোগীরা সোসাইটির পাশে থাকলে আমরা একটি আধুনিক ক্যান্সার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করতে পারব, ইনশাল্লাহ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এজন্য সোসাইটি তার মানব সম্পদ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আপনাদের সবাইর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।
প্রশ্ন পাঠাতে : ০১৭৪৭-১২৯৫৪৭, ০১৭১২-৮১৭১৪৪।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন